India vs Brazil: ব্রাজ়িলের অমোঘ আকর্ষণেও ভরল না যুবভারতীর গ্যালারি, কারণ ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
IND vs BRA: মেসি-কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে ২০ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়নি, বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ময়দানের কয়েকজন পরিচিত ক্রীড়া প্রশাসক দুপুরের দিকে ফোনে আক্ষেপের সুরে বলছিলেন, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন থেকে শনিবার দুপুরে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পাঠানো হয়েছে। সেগুলি বিলি করারও সময় নেই আর। একজন ক্রীড়াকর্তা বললেন, 'ম্যাচের দিন দুপুরে টিকিট পেয়ে সেগুলো দেব কাকে? নষ্টই হবে হয়তো।'
শনিবার সল্ট লেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামে ছিল জোড়া আকর্ষণ। এক, ব্রাজ়িল নামের এক চুম্বক। যাদের ফুটবল জাদু মোহিত করেছে বছরের পর বছর। যাদের সাম্বার ম্যাজিক দেখার জন্য ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বাঙালিরা রাত জাগে। পাড়ায় পাড়ায় হলুদ-সবুজ পতাকা এমন ছেয়ে যায় যে, বিভ্রান্ত হতে হয়। ভারতেই আছি? নাকি সাও পাওলো পৌঁছে গিয়েছি?
ব্রাজ়িল যদি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়, তাহলে মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার হাতছানি। ফুটবল মাঠে ভারত বনাম ব্রাজ়িল। যা কখনও হয়নি। আর কখনও হবে কি না, হলফ করে বলা যায় না। এক লিওনেল মেসিকে নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে যে আবেগের বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছে, সেখানে গোটা ব্রাজ়িল দলের জন্য উন্মাদনার ঢেউ সমান উচ্চতা স্পর্শ করবে বলেই মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু সাম্বার ম্যাজিক, কিংবা ভারত বনাম ব্রাজ়িল ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের জোড়া টানেও মাঠ ভরল না। শনিবারের যুবভারতীতে তিলধারণের জায়গা থাকবে না বলে মনে করেছিলেন অনেকে। যদিও ম্যাচের দিনকয়েক আগে থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে, টিকিটের চাহিদা দুর্দান্ত কিছু নয়।
যুবভারতী স্টেডিয়ামের দর্শকাসন প্রায় ৬৬ হাজার। শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল যে, ৫১,৪০২ দর্শক খেলা দেখছেন। যদিও মাঠে উপস্থিত কেউ কেউ বলছিলেন যে, দর্শকসংখ্যা যাই হোক না কেন, ভারতে প্রথমবার খেলতে এসছে ব্রাজ়িল, আর সেই ম্যাচে গ্যালারি ভরছে না, এটাই তো বিস্ময়কর!
সন্ধ্যা পর্যন্ত নেপথ্যে উঠে আসছিল বেশ কিছু কারণ। এক এবং অন্যতম, টিকিটের দাম। টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। তবে সেই টিকিট ছিল সামান্যই। বাকি টিকিটের দাম ২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনেকেই সেই কারণে টিকিট কাটতে পারেননি বলে মনে করা হচ্ছিল। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে এক জার্সি বিক্রেতা মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, 'দুর্গাপুজোর সময় মধ্যবিত্ত বাঙালি নতুন পোশাক কেনে। সেখানে এত টাকা খরচ করে টিকিট কিনবে কেন?' শেষ মুহূর্তে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাড়া হলেও, মাঠ ভরানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
তবে ম্যাচের শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, মেসি-কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে ২০ হাজার টিকিট কম বিক্রি করা হয়েছিল।অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে খেলা দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ম্যাচের শেষে মাঠ ছেড়ে বেরনোর সময় তিনি বললেন, 'আমরা ২০ হাজার আসন ফাঁকা রেখেছিলাম, যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়। আমাদের কোনও নেতা-মন্ত্রী বা প্রশাসনিক কর্তা সেলফি তোলার চেষ্টা করেনি। মেসি কাণ্ড আর হতে দেব না, এ নিয়ে বদ্ধপরিকর ছিলাম আমরা। সেই কারণেই ৫১ হাজার আসনে দর্শক ছিলেন, আর ২০ হাজার টিকিট ছাড়া হয়নি।'
তবে গ্য়ালারিতে ক্ষোভ রইল কিছু ব্যবস্থা নিয়ে। ভাটপাড়া থেকে খেলা দেখতে আসা এক পরিবার জানাল, মাঠে মহিলাদের ছোট পার্স বা স্লিঙ্গ ব্যাগ নিয়েও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। শতপর্ণা মৌলিক নামের এক দর্শক বললেন, 'এক বয়স্ক ভদ্রলোককে দেখলাম পুলিশকর্মীদের অনুরোধ করছেন, তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগে শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে যেন তাঁকে ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নাছোড় পুলিশকর্মী সেই অনুরোধে আমল দেননি।' যদিও মেসি কাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনও ঢিলেমি দিতে নারাজ ছিলেন পুলিশকর্মীরা। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়িতে দর্শকস্বাচ্ছন্দ্য রইল কি না, তা নিয়েও কারও কারও মনে প্রশ্ন থেকে গেল।
সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠল, ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে খুদেদের নিয়ে এসে কি খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা যেত না? বারাসত থেকে অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছিলেন মিলন মুখোপাধ্যায়। বললেন, 'খুব ভাল লাগত যদি খুদে ফুটবলারদের কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দিয়ে মাঠে আনা হতো। ব্রাজ়িলকে চোখের সামনে দেখলে ওরা উদ্বুদ্ধ হতো।'






















