Sunun Mukhyamantri: 'মা-বাবার মৃত্যুর অভিযোগ পুলিশকে জানাতে পুলিশ বলেছিল আমরা ভোটে ব্য়স্ত আছি'
Sunun Mukhyamantri: দেখুন, আমি এই মঞ্চের ওপর থেকে এমন একজনকে দেখতে পাচ্ছি, যার জীবনের ঘটনা সিনেমার স্ক্রিপ্টকেও হার মানিয়ে দেয়। সে ঘটনায় রাষ্ট্রশক্তির চূড়ান্ত অন্যায় আছে, সব হারানোর যন্ত্রণা আছে, আবার কোথাও একটা বৃত্ত সম্পূর্ণকরার লড়াইও আছে। দুহাজার আঠেরো সালের তেরোই মে, পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের দিন খবর এল, কাকদ্বীপে এক সিপিএম কর্মী দেবু দাস আর তাঁর স্ত্রী ঊষা দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তারপর শুরু হল, সেই অপরাধ চাপা দিতে রাষ্ট্রশক্তির একটার পর একটা মিথ্যে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূলের মন্টুরাম পাখিরা এবং রাজ্য় পুলিশের তৎকালীন পুলিশের শীর্ষকর্তারা একসঙ্গে মিথ্যে বলতে শুরু করলেন, যে শর্ট সার্কিটের কারণে, দুর্ঘটনাবশত, আগুন লেগে এই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। সেইদিনই এবিপি আনন্দে আমরা দেখালাম, স্থানীয় মানুষ প্রমাণসহ বলছেন, যে ঝড়বৃষ্টির কারণে কাকদ্বীপের ওই গোটা এলাকাটায়, ওই রাতে বিদ্যুৎ-সংযোগই ছিল না। শেষপর্যন্ত অবশ্য এই পাপ চাপা দেওয়া যায়নি। ঘটনার পাঁচবছর পর, আরেকটা পঞ্চায়েত ভোটের আগে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, আইপিএস দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বে এই নৃশংস খুনের মামলায় SIT তৈরি হয়। কিন্তু আমার সামনে যে লড়াকু ছেলেটা বসে আছে, সেই দীপঙ্কর দাস কাকদ্বীপের সেই নিহত দম্পতির একমাত্র পুত্র, যে অনেক লড়াই করে আজ বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর আইনজীবী হয়েছে, শুধু মা-বাবার খুনের বিচারটুকু পেতে। দীপঙ্কর আজ ব্য়স্ত আইনজীবী। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনবছর আগে স্টুডিওতে আমার অনুষ্ঠানে এসে ও যখন বলেছিল, "ভোট আসে, ভোট যায়, কিন্তু কত মানুষ হারিয়ে যায়। যেমন আমার মা-বাবা হারিয়ে গেছে। এই নির্বাচনের কী মূল্য আছে?" বিশ্বাস করুন, সেদিন ওকে কোনও জবাব দিতে পারিনি। আজ ওর কাছে জেনে নেব, এই নতুন সরকারের কাছে ওর কী প্রত্যাশা।
All Shows






























