TMC News | "বিজেপির পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরি করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়" | ABP ANANDA LIVE
Ghantakhanek Sange Suman | ভোটার কার্ড তিনি চালু করিয়ে স্বচ্ছ ভোট করিয়েছিলেন, এই দাবি করে আসলে বিজেপির পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরি করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে এসে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর।
দেখুন, প্রথমেই একটা কথা বলি। উনিশশো তিরানব্বই সালের একুশে জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে 'মহাকরণ অভিযান' কর্মসূচিতে, যেভাবে কলকাতার রাজপথ, চোদ্দজন যুবকের রক্তে ভিজেছিল, আমরা মনে করি সেই ঘটনা নির্মম, বর্বরোচিত এবং চরম গণতন্ত্রবিরোধী। এখন, সেই ঘটনার তেত্রিশ বছর পর, কোন্পক্ষের 'শহিদ-দিবস' পালনের নৈতিক অধিকার আছে -- এ নিয়ে তিনপক্ষের দড়ি টানাটানিতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। শহিদ-দিবস পালনে কে সুয়োরানি, কে দুয়োরানি, বাঁদরের পিঠেভাগের মতো, কে মেয়ো রোড পাবে আর কে শহিদ মিনার পাবে -- সে কূট বিতর্কের সমাধান, প্রশাসন করুক আর তারা নিজেরা করুক। আমরা কিন্তু আজ তুলে ধরব একটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার। হ্যাঁ, একুশে জুলাই নিয়ে একটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার।
মজার কথা কী জানেন? আমি নিজে বহুবছর ওই একুশে জুলাইয়ে, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের শহিদ দিবস কভারও করেছি। তখন মমতা যে কথা কখনও বলতেন না, হঠাৎ, গত কয়েকবছর হলো, সেই কথা, তিনি আর তাঁর গোটা দল মিলে একস্বরে বলতে শুরু করেন। কী সেই কথাটা? কথাটা এই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আন্দোলন নাকি ডেকেছিলেন, এপিক কার্ড বা সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নির্বাচনের দাবিতে। আজ যে সচিত্র পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ভোট হয়, সেটা নাকি ওই একুশে জুলাই-এর আন্দোলনের ফসল। আবার বলছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা।
কলকাতার রাজপথে ওই ভয়াবহ ঘটনা যাঁরা কভার করেছিলেন, এমন বহু সাংবাদিক এখনও কাজ করছেন, আমার এই অফিসের একাধিক সহকর্মীও তার মধ্যে আছেন, আপনারাও কাউকে জিজ্ঞেস করেও সত্যিটা জানতে পারেন। আর সত্যিটা কী? সেই সত্যিটা আপনাদের সামনে তুলে ধরব বলে আজ ওই দিন, আর আগের দিন, তার পরের দিন, ওই সপ্তাহে প্রকাশিত সমস্ত সংবাদপত্র আজ এই অনুষ্ঠানে নিয়ে বসেছি। 'আনন্দবাজার পত্রিকা' আর 'দ্য টেলিগ্রাফ' তো দেখাবই, দেখব 'আজকাল', 'প্রতিদিন,' 'বর্তমান', 'গণশক্তি', 'The Statesman' -- সমস্ত কাগজের প্রতিবেদন। আনন্দবাজার পত্রিকা দিয়ে শুরু করি -- এতো গেল পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় সংবাদপত্রের রিপোর্টিং। এবার আসি আরেকটা বিস্ফোরক তথ্যে। উনিশশো তিরানব্বই সালে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এপিক কার্ড চালু হয়নি। টি এন শেষন লাগাতার লড়াই করে তিরানব্বই সালেই এপিক কার্ড introduce করে দিয়েছেন -- nationwide ডেব্যু করে দিয়েছেন ওই বছরেই, কোনও আন্দোলনের ফল হিসেবে নয় -- ভোটে জালিয়াতি আটকাতে। সেই কারণে তিরানব্বই সালেই এপিক কার্ডের চলতি নাম হয়ে গেছে 'শেষন কার্ড।' আর সবচেয়ে বড় কথা, একুশে জুলাইয়ে যুব-কংগ্রেসের আন্দোলনের দাবি ছিল -- আবার বলছি, এপিক কার্ড চালু করার নয়, ওই "মহাকরণ অবরোধ"-এর দাবি ছিল -- "আইনের শাসন অথবা রাষ্ট্রপতি শাসন।" এবার আপনাদের দেখাব, গতবছর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই একুশে জুলাইয়ের দাবি নিয়ে কী বলেছিলেন -- ওই বছরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাবি নিয়ে কী বলেছিলেন, একবার মনে করিয়ে দিই -- একুশে জুলাই গণতন্ত্রের লজ্জার দিন। কিন্তু এই মিথ্যাচারের আদৌ কী প্রয়োজন ছিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও তো কয়েক বছর আগে এই দাবি করতেন না। বিশ্বনাথদার কী মনে হয়?






















