সূর্যদেব শক্তির উৎস।  জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস, নিয়মিত সূর্যকে জল অর্পণ করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে। মনে শআন্তি আসে। জ্যোতিষশাস্ত্রে, সূর্যদেবকে গ্রহদের রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কোনও রাশিতে সূর্যদেবের গোচরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সূর্যের প্রভাব যেখানে শক্তিশালি হয়, সেখানে অন্যান্য গ্রহের শক্তি হ্রাস পায়।  

২০২৫ সালের কুম্ভ রাশিতে সূর্যের গোচর

১২ই ফেব্রুয়ারি ১০:০৩ মিনিটে সূর্য যাত্রা করছে  পুত্র শনির রাশিতে। কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে সূর্য। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়,  যখনই সূর্য ও শনির সংযোগ হয়, তখনই দেশ ও বিশ্বে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে, যা মানুষের জীবন তোলপাড় করে দিতে পারে। কারও কারও কপালে দুর্ঘটনার যোগ আসে।  অস্থিরতা এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। সূর্য ও শনির এই সমাপতনে অনেক মানুষ কেবল মানসিক ও শারীরিকভাবে সমস্যায় ভুগতে পারেন। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। শনি ও সূর্যের অশুভ সংযোগের বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অন্যরকম।  

সূর্যের গোচর 

সূর্য প্রায় ৩০ দিন ধরে একটি রাশিতে অবস্থান করে। তারপর সূর্য অন্য রাশিতে প্রবেশ করে। ৩০ দিন পরে রাশি পরিবর্তনের অর্থ ১২ টি রাশি অতিক্রম করতে সূর্যের ১ টি বছর লাগে।  সূর্যের গোচরের প্রভাব কোনও ব্যক্তির চন্দ্র রাশির উপর নির্ভর করে। 

আবার যাঁরা সূর্যের গোচরের ইতিবাচক ফল পান, তাঁদের কর্মক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি হয়। সূর্যের প্রতিকূল গোচর কোনও ব্যক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে । চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা। 

বিশ্বের উপর বিরূপ প্রভাব

জ্যোতিষশাস্ত্রে, সূর্য এবং শনি একে অপরের শত্রু বলে বিবেচিত হয়। যখনই এই ধরনের সমন্বয় তৈরি হয়, তখনই দেশ ও বিশ্বে অবাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটতে পারে। দেশে উত্তেজনা, অস্থিরতা এবং ভয়ের পরিবেশও তৈরি হয়।  বেশিরভাগ মানুষের সমস্যা বাড়তে পারে। কোনও ঘটনা ঘিরে  অবস্থান ধর্মঘট, মিছিল, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, হতে পারে। রেল দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।  বড় নেতাদের জীবনে আঘাত আসতে পারে। শনি ও সূর্যের অশুভ সংযোগের কারণে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সময়টি অনুকূল থাকে না । বড় ধরনের পরিবর্তন এবং বিরোধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

বিশ্বের উপর ভালো প্রভাব

জ্যোতিষশাস্ত্রে, সূর্য এবং শনির সংযোগের কিছু ভাল প্রভাবও আছে। যেমন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা থাকে। 

সূর্য দেবের অনুকূল প্রভাবে থাকতে কুম্ভ সংক্রান্তির দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সূর্যদেবের পুজো করা উচিত। জল অর্পণ করা উচিত। এদিন আদিত্য হৃদয় উৎস পাঠ করা উচিত। এই শুভ দিনে, সূর্যকবচ, সূর্য চালিশা, সূর্য আরতি, সূর্য স্তোত্র, আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য মন্ত্র, সূর্য নামাবলী ইত্যাদি যথাযথ আচার-অনুষ্ঠান মেনে জপ করতে পারলে ভাল। অনেক প্রতিকূলতা এড়ানো যায়।  

ডিসক্লেমার : কোনও রাশির জাতক বা জাতিকার ভাগ্যে কী রয়েছে সেই সংক্রান্ত কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ জ্যোতিষ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।