কলকাতা: গ্রহের অবস্থান বদল হলেই জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন শুভ ও অশুভ যোগ তৈরি হয়। কখনও কোনও যোগ রাশিচক্রের জাতক-জাতিকাদের জন্য সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেয়, আবার কোনও কোনও যোগ জীবনে চ্যালেঞ্জ বাড়াতে পারে বলে মনে করা হয়। এবার মীন রাশিতে চন্দ্র ও শনির মিলনে তৈরি হয়েছে ‘বিষ যোগ’। জ্যোতিষমতে এই অশুভ যোগের প্রভাবে ৩ রাশির জীবনে মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং কর্মক্ষেত্রে বাধা বাড়তে পারে।           

Continues below advertisement

জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ৮ জুলাই ২০২৬ চন্দ্র মীন রাশিতে প্রবেশ করেছে। শনি আগে থেকেই মীন রাশিতে অবস্থান করছে। ফলে একই রাশিতে চন্দ্র ও শনির যুতি তৈরি হওয়ায় বিষ যোগ গঠিত হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই যোগকে সাধারণত চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হয়।

বিষ যোগ কী?

Continues below advertisement

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যখন চন্দ্র ও শনি একই রাশিতে একসঙ্গে অবস্থান করে, তখন বিষ যোগ তৈরি হয়। চন্দ্রকে মন, আবেগ, মানসিক শান্তি ও সংবেদনশীলতার কারক বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে শনি কর্ম, সংগ্রাম, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব ও পরীক্ষার প্রতীক। এই দুই ভিন্ন প্রকৃতির গ্রহের মিলন মানসিক চাপ ও সিদ্ধান্তহীনতা বাড়াতে পারে বলে জ্যোতিষমত।

চন্দ্রের প্রকৃতি শান্ত ও আবেগপ্রবণ, অন্যদিকে শনির প্রভাব কঠোরতা, ধৈর্য ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই দুই গ্রহ একত্র হলে বিভ্রান্তি, উদ্বেগ, হতাশা বা আবেগের ওঠানামা বাড়তে পারে বলে মনে করা হয়। কোনও কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়া, পরিকল্পনায় দেরি কিংবা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগও দেখা দিতে পারে। তবে ব্যক্তির জন্মছক ও গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী এই প্রভাব আলাদা হতে পারে।

মেষ রাশি

মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময় মানসিক দিক থেকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। অপ্রত্যাশিত খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কাজ শেষ করতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে কর্মক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিংহ রাশি

সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের বিনিয়োগ ও আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্যোতিষমতে, এই সময় কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা সমস্যার কারণ হতে পারে। পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে কথাবার্তার সময় সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন। আবেগের বশে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল হতে পারে।

তুলা রাশি

তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর কাজের চাপ বাড়তে পারে। দৈনন্দিন দায়িত্ব আগের তুলনায় বেশি কঠিন বলে মনে হতে পারে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা বজায় রাখা উপকারী হতে পারে।