AC Using Guide: অত্যধিক গরমে প্রায়শই এই বিষয়টি নজরে আসে আমাদের। গরম পড়ার আগেই অনেকে পুরনো এসি সার্ভিসিং (AC Servicing) করিয়ে নিলেও এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, এসি একটানা চললেও ঘর ঠিকঠাক ঠান্ডা হচ্ছে না, কিংবা ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় লাগছে।
এসির গ্যাস কমে যাওয়ার কারণে এমন হয়
সাধারণত মানুষ এই পরিবর্তনটা চট করে বুঝতে পারেন না। ফলস্বরূপ, ঘরের তাপমাত্রা কমাতে কম্প্রেসর একটানা চলতে থাকে এবং মাসের শেষে বিদ্যুতের বিল আসে আকাশছোঁয়া! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হল এসির গ্যাস (Refrigerant) কমে যাওয়া বা গ্যাস লিক হওয়া।
ঘরে বসে কীভাবে বুঝবেন আপনার এসির গ্যাস শেষ হয়েছে কিনা ?
এসির গ্যাস লিক হওয়ার প্রধান ৪টি কারণ১. পাইপে মরচে বা ক্ষয় : এসি গ্যাস লিকের অন্যতম বড় কারণ হলো পাইপের ক্ষয়। এসির ইনডোর এবং আউটডোর ইউনিটের মধ্যে সংযোগকারী তামার (Copper) পাইপগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে ধুলো-ময়লা জমে থাকলে তাতে মরচে ধরে যায়। এর ফলে পাইপে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি হয় এবং গ্যাস লিক হতে শুরু করে।
২. ভুল ইনস্টলেশন ও কম্পন : এসি বসানোর সময় যদি পাইপের জয়েন্টগুলো ঠিকমতো টাইট না করা হয়, তবে ধীরে ধীরে গ্যাস বেরোতে থাকে। এছাড়া, আউটডোর ইউনিট চলার সময় যে কম্পন (Vibration) তৈরি হয়, তার ফলেও অনেক সময় পাইপের জয়েন্ট আলগা হয়ে গ্যাস লিক হয়।
৩. সার্ভিসিংয়ে অবহেলা : গরমের শুরুতে অনেকেই অলসতাবশত এসি সার্ভিসিং করান না। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করায় এয়ার ফিল্টারে ধুলো জমে তা জ্যাম হয়ে যায়। এর ফলে ইনডোর ইউনিটের কয়েলে বরফ জমতে শুরু করে, যা কয়েলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে গ্যাস কমিয়ে দেয়।
৪. সস্তা সামগ্রী ও অদক্ষ মেকানিক : সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে অনেকেই স্থানীয় বা আনাড়ি মেকানিক দিয়ে এসি মেরামত করান। কম দামি বা নিম্নমানের তামার পাইপ ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্যাস লিকের সমস্যা দেখা দেয়।
ঘরে বসে কীভাবে বুঝবেন এসির গ্যাস শেষ হচ্ছে? (৫টি সহজ লক্ষণ)যদি আপনার এসিতে নিচের লক্ষণগুলি দেখা যায়, তবে বুঝবেন এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে:
ঘর ঠান্ডা না হওয়া: এসি চালু রাখার পরেও যদি ঘরের তাপমাত্রা না কমে, তবে বুঝবেন এসির গ্যাস ফুরিয়ে এসেছে।
আউটডোর পাইপে বরফ জমা: এসির আউটডোর ইউনিটের কাছে থাকা সরু তামার পাইপটিতে যদি সাদা বরফ জমতে দেখেন, তবে এটি গ্যাস কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট সংকেত।
হিস হিস শব্দ হওয়া: ইনডোর বা আউটডোর ইউনিট থেকে যদি গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার মতো কোনো 'হিস হিস' (Hissing) শব্দ শুনতে পান, তবে বুঝবেন লাইনে লিক রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেড়ে যাওয়া: গ্যাস কমে গেলে ঘর ঠান্ডা করতে কম্প্রেসরের দ্বিগুণ খাটুনি হয়। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কারেন্ট বিল অনেক বেশি আসে।
বাতাসে আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ: ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে যদি ঘরের ভেতরে ভ্যাপসা গরম বা আর্দ্রতা বাড়ে, কিংবা এসি থেকে অদ্ভুত কোনো গন্ধ বেরোয়, তবে তা গ্যাস লিকের লক্ষণ হতে পারে।
আরও পড়ুন : অর্ধেক হবে বিদ্যুতের বিল, গরমে নিন এই চার পদক্ষেপ
