Baba Ramdev : বদলে যাওয়া ভাবধারার মধ্যেই ভারতের সনাতন ঐতিহ্যের কথা মনে করালেন বাবা রামদেব। ফেসবুক লাইভ সেশনে ভারতীয় সংস্কৃতি, যোগ, যজ্ঞ ও দেশীয় পণ্যের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মকর সংক্রান্তির মতো উৎসবগুলিকে দেশের সনাতন ঐতিহ্যের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন যোগগুরু।
লাইভে এসে কী বলেছেন বাবা রামদেবফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নাগরিকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে যোগগুরু ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি মকর সংক্রান্তি, পোঙ্গল ও বিহুর মতো উৎসবগুলোকে সনাতন ঐতিহ্যের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রামদেব বলেছেন, এই অনুষ্ঠানগুলি কেবল উদযাপন নয়, বরং এগুলি আমাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা এবং জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব শেখায়।
সিন্থেটিক পণ্যের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তাভাষণে রামদেব আধুনিক জীবনযাত্রায় রাসায়নিক ও সিন্থেটিক পণ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাসায়নিকের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কেবল মানুষের স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করছে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট করছে। তিনি জীবনযাত্রাজনিত রোগের জন্য এই রাসায়নিকগুলিক দায়ী করেন এবং মানুষকে জৈব ও প্রাকৃতিক পণ্য গ্রহণের আহ্বান জানান।
যোগ, যজ্ঞ ও শিক্ষার গুরুত্বফেসবুক লাইভে এসে বাবা রামদেব ‘যোগ’ ও ‘যজ্ঞ’কে ভারতীয় সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই অনুশীলনগুলি কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং মানসিক শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি পথ। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘ভারতীয় শিক্ষা বোর্ড’-এর কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এটি আধুনিক শিক্ষাকে ভারতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে একীভূত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
স্বদেশি ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র উপর জোরদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য রামদেব ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে জোরালোভাবে সমর্থন করেন। তিনি নাগরিকদের বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যখন আমরা ভারতে তৈরি পণ্য ব্যবহার করি, তখন আমরা কেবল আমাদের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করি না, বরং দেশীয় জ্ঞানকেও সম্মান জানাই।
শেষে পতঞ্জলির পণ্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক জীবনধারা অবলম্বন করেই একটি সুস্থ ও উন্নত জীবনযাপন করা সম্ভব। তিনি এই পরিবর্তনশীল ঋতু ও উৎসবের সময়ে মানুষকে প্রাচীন ঐতিহ্যে ফিরে আসার জন্য শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।