কলকাতা: দেশে মেয়েদের অবস্থান আরও মজবুত করতে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প। এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের স্কুলছুটের হার কমানো। এছাড়াও মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার, ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর সহজলভ্যতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Continues below advertisement

এছাড়া আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ শিবির, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের মতো উদ্যোগও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।

এই প্রকল্পে কী সহায়তা?

বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে সরাসরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেই। অনেকের ধারণা, কন্যাসন্তানের জন্ম বা পড়াশোনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে সরাসরি নগদ সহায়তা বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ, এই প্রকল্পের নামে টাকা পাওয়ার জন্য কোনও আবেদনপত্র পূরণ করার প্রয়োজন নেই। সরকার এর আগে এই প্রকল্পের ভুয়ো আবেদনপত্র সম্পর্কে সতর্কতাও জারি করেছে।

Continues below advertisement

রাজ্য সরকারের প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা

কেন্দ্রীয় বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে সরাসরি আর্থিক সহায়তা না থাকলেও বিভিন্ন রাজ্যে কন্যাসন্তানের জন্য পৃথক আর্থিক প্রকল্প রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা-র কথা বলা যায়। এই ধরনের প্রকল্পে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করলে কন্যাসন্তানের জন্ম, শিক্ষা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এই অর্থ কেন্দ্রীয় বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা নয়।

বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নয়, জন্মের আগে থেকেই তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। কন্যাভ্রূণ হত্যা রোধ, নিরাপদ প্রসব, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি, বিদ্যালয়ছুটের হার কমানো এবং সমাজে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার মতো একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে এই কর্মসূচির।

তবে প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সহজলভ্যতা এবং স্থানীয় স্তরে ধারাবাহিক সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।