নয়াদিল্লি: ‘এপস্টিন ফাইলস’ ঘিরে উথালপাথাল পরিস্থিতি তৈরি হল। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দরুণ তদন্ত শুরু হতেই ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরাম’ থেকে পদত্যাগ করলেন বোর্গে ব্রেন্দা। ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামে’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। (World Economic Forum)

Continues below advertisement

যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের কুকর্মের লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করেছে আমেরিকা, যাতে নাম পাওয়া গিয়েছে বোর্গেরও। জেফ্রির সঙ্গে তিন-তিনবার তিনি নৈশভোজে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ইমেল এবং টেক্সট মেসেজেও কথাবার্তা চলত দু’জনের মধ্যে। সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। (Epstein Files)

আর তাতেই ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামে’র সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বোর্গে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “অনেক ভাবনাচিন্তার পর ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। গত সাড়ে আট বছর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।”

Continues below advertisement

‘এপস্টিন ফাইলসে’ নাম থাকা নিয়ে যদিও নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেননি বোর্গে, তবে তাঁর বক্তব্য, “সহকর্মী, সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। আমার মনে হয়, এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়, যাতে নির্বিঘ্নে সংস্থার কাজ চলতে পারে।” এর আগে নরওয়ে সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বোর্গে।

তবে বোর্গে এপস্টিন সংযোগ নিয়ে কিছু না বললেও, ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামে’র কো-চেয়ারপার্সনস আন্দ্রে হফম্যান এবং ল্যারি ফিঙ্ক পৃথক বিবৃতি জারি করেন। তাঁরা জানান, এপস্টিনের সঙ্গে বোর্গের ঘনিষ্ঠতা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত হয়। নিজের অবস্থান স্পষ্ট ভাবে জানাতে বলা হয় বোর্গেকে। ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরাম’ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, মর্যাদা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই পৃথক তদন্ত বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 

২০২৭ সালে ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামে’র দায়িত্ব গ্রহণ করেন বোর্গে। তিনি সরে যাওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অ্যালোইস জুইঙ্গি। বোর্ড ক্ষমতার হস্তান্তরণ প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করবে। স্থায়ী উত্তরাধিকারীর খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন অ্যালোইস। জেনিভায় ‘ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামে’র সদর দফতর। সেখানেই বার্ষিক ‘দাভোস সম্মেলনে’র আয়োজন হয়, যাতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা থেকে তাবড় শিল্পপতি, বিদ্বজনের অংশ নেন। 

'এপস্টিন ফাইলসে' তাবড় ধনকুবের, রাজনীতিক, শিল্পপতি, সমাজকর্মীদের নাম জড়িয়েছে। মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও বাদ যাননি। এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, রুশ মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। এমনকি নিজের প্রাক্তন স্ত্রীকে গেটস কোনও ওষুধ দিতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি সামনে এসেছে। একদিন আগেই সেই নিয়ে ক্ষমতা চান গেটস। কোনও অন্যায় করেননি বলে জানালেও, এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং রুশ মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ক্ষমা চান।