২০২৬ সাল। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাজেট মানেই সাধারণ মানুষের চাতকের মতো আয়কর-ছাড়ের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা। গত বছর সাধারণের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছিল মোদি সরকারের আয়কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। এবারও বাজেট যতই এগিয়ে আসছে, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় করদাতা ফের একবার প্রত্যাশায়। আবারও কি ট্যাক্স স্ল্যাবে কোনও স্বস্তিদায়ক খবর মিলবে? অনেকে এখনও আটকে এই প্রশ্নে যে, পুরনো নাকি নতুন কর ব্যবস্থা, কোনটা তাদের জন্য লাভদায়ক।
২০২৫ এর বাজেটে বাজেটে, বার্ষিক আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা একলাফে ৫ লক্ষ টাকা বাড়িয়ে, ১২ লক্ষ টাকা করার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। অর্থাৎ কারও মাসিক এক লক্ষ টাকার মধ্য়ে থাকলে, তাঁকে এক পয়সাও আয়কর গুনতে হবে না, যা শুনে মধ্য়বিত্তর হাসি চওড়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের হাতে টাকার জোগান বাড়ে। ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়। তবুও এক বছর পরে এখনও অনেকে পুরনো কর কাঠামোতেই আটকে আছেন। তার অবশ্য কয়েকটি কারণও আছে। যাদের গৃহঋণ, বীমা পলিসি এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় রয়েছে, তারা এখনও ওই সংক্রান্ত নথি দেখিয়ে ছাড়ের আগ্রহে পুরনো কর কাঠামোতেই কর দিয়ে যাচ্ছেন।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, গত ২০২৫ এর মোদি সরকার ইনকাম ট্যাক্সের ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন এনেছিল।
- বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা অবধি হলে, আয়কর বাবদ একটি পয়সাও দিতে হয় না, গতবারের বাজেট অনুসার । অর্থাৎ আপনার মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা অবধি হলে, একটি টাকাও কর গুনতে হচ্ছে না।
- এরপর আবার রয়েছে ৭৫ হাজার টাকা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা হবে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা অবধি।
- বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা অবধি আয় হলে কোনও আয়কর দিতে হবে না। আয় ১২ লক্ষ ছাড়ালেই, অর্থাৎ ১২ লক্ষ ১ টাকা হলেই, আপনাকে কর গুনতে হবে। সেক্ষেত্রে কত আয়ে, কত শতাংশ হারে কর গুনতে হচ্ছে নতুন কর কাঠামোয়?
- বার্ষিক ৪ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে কোনও আয়কর নেই।
- বার্ষিক ৪ থেকে ৮ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ে ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে।
- বার্ষিক ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ে আয়কর গুনতে হবে ১০ শতাংশ হচ্ছে।
- বার্ষিক ১২ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ে ১৫ শতাংশ।
- বার্ষিক ১৬ থেকে ২০ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ে ২০ শতাংশ।
- বার্ষিক ২০ থেকে ২৪ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য আয়ে ২৫ শতাংশ।
- বার্ষিক ২৪ লক্ষ টাকার ওপর করযোগ্য আয়ে ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হচ্ছে।
মোদী ৩.০ সরকারের এই দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট থেকে মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের আরও উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ( স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সহ ) আয় করমুক্ত করা হয়েছিল। এই বছর মোদি সরকার কিছু বড় চমকও দিতে পারে। যেমন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনে। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দাবি উঠেছে, বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য মোট আয়ের উপর স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সীমা ৭৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করার। এবার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়িয়ে দিলে সবরকম আয় গোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে উপকারী পদক্ষেপ হতে পারে। যখন কেউ পারিবারিক বাজেট সামলাতে হিমশিম খান, তখন কোনও বীমা করে বা গৃহঋণ দেখিয়ে করমুক্তির পথ খোঁজার থেকে, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সীমা বাড়ালে অনেকটা স্বস্তি পান। তাহলে এটি ভারতের বেতনভোগী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য খুবই উপকারী হতে পারে। তাছাড়া, করমুক্ত আয়ের সীমা, যা আগের বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা ছিল, তাও বাড়ানো হয় কিনা , সে বিষয়েও নজর থাকতে পারে মোদি সরকারের।
মোদি সরকারের এইবারের বাজেট নজরকাড়া হয় কি না, সেটাই দেখার।