নয়াদিল্লি: রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য় ভারতকে ‘শুল্ক-শাস্তি’ দিয়েছেন। কিন্তু চিনের ব্যাপারে এতদিন বুঝেশুনেই পা ফেলছিল আমেরিকা। বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু এবার বেজিংয়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, চিন যথেষ্ট চালাকি করছে আমেরিকার সঙ্গে। চাইলে তিনিও চালাকি করতে পারেন। কিন্তু তাতে চিন ধ্বংস হয়ে যাবে। (Donald Trump)
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ওভাল অফিসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, “চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হবে। শীঘ্রই হতে চলেছে। আপনারা দেখতে পাবেন। ওদের হাতে কিছু তুরুপের তাস রয়েছে। আমাদের হাতেও তাস রয়েছে। কিন্তু আমি সেদিকে যেতেই চাই না। কারণ আমি চাল দিলে চিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমি তেমন কোন চাল দেব না।” (US-China Trade)
বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে চিনের সঙ্গেও বিগত কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন চলছে আমেরিকার। এপ্রিল মাসে চিনের উপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত ওই হারে শুল্ক কার্যকর হয়নি যদিও। এই মুহূর্তে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দেশই। ৯০ দিনের ‘শুল্ক-শান্তি’ কায়েম রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও চিনের উপর লাগাতার চাপসৃষ্টি করে চলেছেন ট্রাম্প। একদিন আগেই চিনা পণ্যের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত চুম্বক রফতানি না করলে চিনকে ফল ভুগতে হবে বলে জানান। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের চুম্বক দিতেই হবে ওদের। অন্যথায় ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।”
গাড়ি, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে চুম্বক অপরিহার্য। সেই নিয়ে চিনকে কার্যত হুমকি দিয়ে বসেন ট্রাম্প, যা নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায়। একদিকে, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যখন সমঝোতার চেষ্টা চলছে, সেই সময় ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ট্রাম্প যে সুর নরম করার পক্ষপাতী নন, আবারও তা বোঝা গেল।
শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে এপ্রিল মাস থেকেই আমেরিকায় চুম্বক রফতানি বন্ধ রেখেছে চিন। ট্রাম্পের দাবি, ইতিমধ্যেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। শীঘ্র বেজিং সফরেও যেতে পারেন তিনি।
আমেরিকা ও চিনের মধ্য়ে আদৌ বোঝাপড়া তৈরি হয় কি না, গোটা পৃথিবী এই মুহূর্তে সেদিকেই তাকিয়ে। এমনকি ভারতও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কারণ রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেও, চিনের বিরুদ্ধে এখনও তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। যদিও আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরান এবং রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে চিনকে অসন্তোষের কথা জানানো হয়েছে। সেই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।