Continues below advertisement

Nirmala Sitharaman On Lockdown :  ভারতে লকডাউন (Energy Lockdown) নিয়ে এবার সরব হলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। রাজ্যসভার ভাষণে এদিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ''মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াতে ভিত্তিহীন গুজব রটানো হচ্ছে। কোথায় লকডাউন হচ্ছে ? পাকিস্তানে লকডাউন হচ্ছে, ভারতে নয়।''

পাকিস্তানে বেহাল দশা, ভারতে স্থিতাবস্থাএদিন নিজের সোশ্য়াল মিডিয়া হ্য়ান্ডেলেও এই বিষয়ে পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। যেখানে তিনি জানান, পাকিস্তানে জ্বালানি সঙ্কটের জেরে উচ্চ মানের জ্বালানির ওপর ২০০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। রাতারাতি ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে পেট্রোল-ডিজেলের ওপর। পাকিস্তানে এখন লিটার পিছু পেট্রেলারে দাম হয়েছে ৩২১ PKR (পাকিস্তানি মুদ্রা)। জ্বালানি সাশ্রয় করার জন্য সিন্ধ প্রদেশে 'স্মার্ট লকডাউন' ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা পর এখানে জনসভা, সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।  

Continues below advertisement

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা, সরকারি অফিসে চারদিন কাজপাকিস্তানে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অফিসে হচ্ছে ৪দিন কাজ। বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের জন্য বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের কী অবস্থাঅর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতে এখনও এরকম কোনও পরিস্থিতি হয়নি। তা সত্ত্বেও অনেক নেতা লকডাউন হবে বলে গুজব ছড়াচ্ছেন। এই গুজব ছড়ানো উচিত নয়। এই ধরনের ভয় জনগণের মধ্য়ে আতঙ্ক রটাতে করা হচ্ছে। পাকিস্তানে এখনই রাত সাড়ে ৯টার মধ্য়ে বাজার বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসবই সবমাধ্য়মে মাধ্যমের খবরে পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অবস্থাও ভাল নয়বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এদিন অর্থমন্ত্রী পোস্টেই উঠে আসে খারাপ পরিস্থিতির কথা। নির্মলা সীতারামন জানান,  প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুতের বেহাল দশা। সব বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যক্রম বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস করতে বলা হয়েছে। পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। ঢাকায় পেট্রোল পাম্পগুলিতে পেট্রোল-ডিজেল না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে অবস্থা ভাল নয়, তা সত্ত্বেও দেশবাসীর যাতে সমস্য়া না হয়, সেই ব্যবস্থা করেছে সরকার।

এদিন পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, "দামের ক্ষেত্রে আমি একটি পার্থক্যের কথা বলতে চাই। ভারতে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি (দাম স্থিতিশীল আছে)।

অন্যদিকে, পাকিস্তানে পেট্রোল, ডিজেল ও ভাল মানের পেট্রোল ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে দাম ২০% থেকে ২০০% পর্যন্ত বেড়েছে। বাংলাদেশে অনেক পাম্প বন্ধ, রেশন ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। সরবরাহ ১০ থেকে ১৫% কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্তায় দাঁড়িয়ে ভারতে, আবগারি শুল্ক (Excise duty) সংক্রান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা জ্বালানি লিটার প্রতি ১০ টাকা কমিয়েছি। কিন্তু পাকিস্তান বা বাংলাদেশ—কেউই এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে ভারত নিজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির নির্দেশ অনুসরণ করেছে সবাই।