নয়াদিল্লি: একধাক্কায় অনেকটা বাড়ল ভারতের বৈদেশিক ঋণ। জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বৈদেশিক ঋণ বেড়ে হল ৭৭৮.২ বিলিয়ন ডলার। মার্চ ত্রৈমাসিকের তুলনায় জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বৈদেশিক ঋণ ১৫.৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। বুধবার এই তথ্য় প্রকাশ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। (India's External Debt)

Continues below advertisement

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া যে তথ্য় দিয়েছে, সেই অনুযায়ী, ভারতীয় মুদ্রায় জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৪,৮৯,৩৯৬.৮ কোটি টাকা। (External Debt of India)

তবে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়লেও, দেশের মোট GDP-র তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাতে সামান্য উন্নতি চোখে পড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যেখানে অনুপাত ২০.৯ শতাংশ ছিল, জুন ত্রৈমাসিকের শেষে তা কমে হয়েছে ২০.৮ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ যেমন বেড়েছে, অর্থনীতিও এগিয়েছে। তাই আগের চেয়ে সামান্য হালকা হয়েছে ঋণের বোঝা।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দিতে চায় ঋতব্রত-তৃণমূল, শর্ত একটাই, মমতাকে রাখা যাবে না

ভারত শুধুমাত্র ডলারে ঋণ নেয় না। ইউরো বা ইয়েনেও ঋণ নেওয়া হয়। তবে হিসেব প্রকাশিত হয় ডলারেই। এতে হিসেব কষতে গিয়ে কাগজে কলমে সুবিধা হয়েছে ভারতের। ডলারের মান অন্য মুদ্রার চেয়ে বেশি। তাই এক্ষেত্রে অন্য মুদ্রায় নেওয়া ঋণের পরিমাণ ডলারে রূপান্তরিত করার পর, ঋণের অঙ্ক কম দেখাচ্ছে। প্রায় ৯০ কোটি ডলারের সুবিধাজনক একটা তফাত তৈরি হয়েছে এক্ষেত্রে। ডলারের প্রভাব যদি বাদ দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে বাস্তবে ভারতের ঋণ বেড়েছিল ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় তা ১৫.৪ বিলিয়ন ডলার দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন: SIR বিতর্কে এবার নাম জুড়ল টাটাদের TCS সংস্থার, ফর্ম-৬ বদলানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? প্রশ্ন তুললেন রাহুল গাঁধী

দীর্ঘমেয়াদি যে ঋণ, অর্থাৎ এক বছরের বেশি সময়ের ঋণ জুন ত্রৈমাসিকে বেড়ে ৬২৪.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা মার্চ মাসের তুলনায় ১১.২ বিলিয়ন ডলার বেশি। ওই একই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ১৯.৭ শতাংশ, যা মার্চ ত্রৈমাসিকে ১৯.৬ শতাংশ ছিল। সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ঋণের হার বেড়েছে কিছুটা। 

ভারতের বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগই ডলারে নেওয়া। জুন ত্রৈমাসিকের শেষে তার পরিমাণ ছিল ৫৪.৮ শতাংশ। ডলারেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি, বেসরকারি-সবখাতেই বেড়েছে ঋণের পরিমাণ।