নয়াদিল্লি: সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ভারত এখন চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠেছে। জাপানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভারতের জিডিপি। শনিবার নীতি আয়োগের সিইও বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম স্পষ্ট ঘোষণা করেন ভারতের (India Economy) এই নতুন রেকর্ডের বিষয়ে। নীতি আয়োগের দশম গভর্নিং কাউন্সিল মিটিংয়ের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে নীতি আয়োগের সিইও জানান যে সামগ্রিক স্তরে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেস এখন ভারতের পক্ষে অনুকূল।
বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানান, 'আমি এখন যে কথা বলছি, এই সময় ভারত অর্থাৎ আমরা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আমরা ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের (India Economy) অর্থনীতি। আইএমএফের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানান যে ভারত আজ জাপানের চেয়েও অনেক বড় অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, এখন কেবলমাত্র ভারতের আগে অর্থনীতিতে এগিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও জার্মানি। যেভাবে ভারত পরিকল্পনা করেছে এবং সেই পরিকল্পনায় যদি স্থির থাকা যায়, আগামী আড়াই-তিন বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে নীতি আয়োগের সিইও বিভিআর সুব্রহ্মণ্যমকে প্রশ্ন করা হয় যে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকার বাজারে বিক্রি হওয়ার জন্য অ্যাপল আইফোন আর ভারত সহ অন্য কোনও দেশেই তৈরি হবে না, তা তৈরি হবে আমেরিকাতেই, এই প্রসঙ্গে তাঁর কী মতামত ? বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানান, 'শুল্ক কী হবে তা অনিশ্চিত, তবে গতিশীলতার দিক থেকে ভারতেই সবথেকে সস্তায় পণ্য উৎপাদন করা যেত'। তিনি আরও জানান যে অ্যাসেট মানিটাইজেশন অর্থাৎ সম্পদ নগদীকরণের দ্বিতীয় দফার পরিকল্পনা চলছে, অগাস্ট মাসে এই বিষয়ে বড় ঘোষণা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর আরোপের ফলে যে সুযোগ এসেছে নতুন করে তাকে কাজে লাগানোর জন্য রাজ্যগুলিকে আহ্বান জানিয়ে সুব্রহ্মণ্যম বলেন 'ভারত তার প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক ভাল ফলাফল করেছে। আপনি যদি সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের দিকে তাকান তাহলে তা এখন ভারতের পক্ষে অনুকূল।'
ভারতীয় অর্থনীতির প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'আপনারা অন্য দেশগুলির মত এতটা ক্ষতিগ্রস্ত নন। ভারতের দক্ষ ও সস্তা শ্রমের উপলভ্যতাও দেশের জন্য সুবিধেজনক। দেশ এখন পরিচালিত হচ্ছে তরুণ কর্মীদের দ্বারা। যদি কেউ উল্লেখযোগ্যভাবে উৎপাদনে আগ্রহী হন তাহলে ভারতই একমাত্র জায়গা যেখানে আপনি বৃহৎ পরিসরে সস্তায় শ্রমশক্তি পেতে পারেন। এটাই অনিবার্য ঘটনা। ফলে সমস্যাটা একমাত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে'।