নয়াদিল্লি: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া সংক্ষেপে সেবির তরফে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্ডার জারি করা হয়েছে যেখানে ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কের বর্তমান ও প্রাক্তন মিলিয়ে ৫ জন এক্সিকিউটিভকে সিকিউরিটিজ বাজার (IndusInd Bank) থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে যে তারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন প্রমাণও পেয়েছে সেবি। এমনকী সেই এক্সিকিউটিভদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগও (Insider Trading) রয়েছে যে তারা আনপাবলিশড প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন ব্যবহার করে ১৯.৭৮ কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

২৮ মে সেবির তরফে এই এক্স-পার্ট অন্তর্বর্তীকালীন অর্ডার পাশ করা হয়েছে ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কের ৫ জন সিনিয়র আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যাদের মধ্যে আছেন অরুণ খুরানা (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও ডেপুটি সিইও), সুমন্ত কাঠপলিয়া (ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও), সুশান্ত সৌরভ (হেড অফ ট্রেজারি অপারেশনস), রোহন জাঠানা (হেড অফ জিএমজি অপারেশনস), অনিল মার্কো রাও (চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, কনজিউমার ব্যাঙ্কিং)। সেবি জানিয়েছে এই তালিকার মধ্যে বেশ কয়েকজন আগেই এই ব্যাঙ্ক থেকে পদত্যাগ করেছেন।

সেবির নির্দেশ অনুযায়ী ইনসাইডার ট্রেডিং থেকে উপার্জিত অর্থের কারণে এই আধিকারিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেবি তাদের বাজেয়াপ্ত অর্থের পরিমাণের জন্য নিজেদের নামে স্থায়ী আমানত করতে বলেছে, যার জন্য সেবির পক্ষ থেকে একটি লিয়েন চিহ্নিত করা হয়েছে যা নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়া কোনওভাবেই তোলা বা ব্যবহার করা যাবে না।

কীভাবে হল তদন্ত

১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কের শেয়ারের দামে হঠাৎ ধস নামার পরেই সেবি একটি সুয়ো মোটো তদন্ত শুরু করে। ঠিক এর আগের দিনেই ব্যাঙ্কের তরফে প্রকাশ্যে তাদের ডেরিভেটিভ পোর্টফোলিওর গরমিলের কথা জানানো হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা আরবিআইয়ের মাস্টার ডিরেকশন অনুসারে বাধ্যতামূলক পরিবর্তনগুলি থেকে এই সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আভ্যন্তরীণ ইমেলের মাধ্যমে সেবি জানতে পারে এই ব্যাঙ্কে যথাক্রমে ১৫৭২ কোটি টাকা (সেপ্টেম্বর ২০২৩), ১৭৭৬.৪৯ কোটি টাকা (ডিসেম্বর ২০২৩) এবং ২৩৬১.৬৯ কোটি টাকা (মার্চ ২০২৪)-র গরমিল পাওয়া গিয়েছে। ব্যাঙ্কের শীর্ষ পরিচালকদের এই বিষয়ে ডিসেম্বর মাসে জানানো হলেও মার্চ মাসে ব্যাঙ্কের তরফে প্রকাশ্যে এই গরমিলের ব্যাপারে জানানো হয়।

ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ

ইউপিএসআই পর্বের সময়ে এই পাঁচজন আধিকারিক ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কের ব্যাপক পরিমাণের শেয়ার বিক্রি করে বাজারে এবং কোনও কিছু কেনাকাটা করেন না যা কিনা সেবির মতে লোকসান কমানোর এক বড় উপায়। ১১ মার্চ এই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম তাই এক ধাক্কায় ৯০০ টাকা থেকে নেমে আসে ৬৫৫ টাকায়। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে অরুণ খুরানা ৩.৪৮ লক্ষ শেয়ার বিক্রি করে ১৪.৩৯ কোটি টাকা লোকসান কমান, সুমন্ত কাঠপলিয়া ১.২৫ লক্ষ শেয়ার বিক্রি করে ৫.২ কোটি টাকা লোকসান কমান আর বাকি তিনজন আধিকারিক মোট ১৯ লক্ষ শেয়ার বিক্রি করেন।

আর তাই সেবির নির্দেশে এই ৫ এক্সিকিউটিভকে সিকিউরিটিজ বাজার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের জন্য তাদের সমস্ত সম্পদ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।