Iran Israel War : পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতির লক্ষণ নেই। ইরান, ইজরায়েল বা আমেরিকা— কোনও পক্ষই পিছু হটতে নারাজ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি আঁচ পড়ছে ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
১. রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি সংকটহরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০% আমদানি করে, তাই এই সংকট সরাসরি ভারতকে আঘাত করছে।
প্রভাব: সার কারখানা থেকে শুরু করে টাইলস ফ্যাক্টরি—সবই সংকটে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রেস্তোরাঁ শিল্প।
বিকল্প: 'ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া' (NRAI) রেস্তোরাঁগুলিকে মেনু ছোট করা এবং গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
২. শেষকৃত্যে বিপত্তি (শ্মশানে প্রভাব)এলপিজি (LPG) সংকটের প্রভাব পৌঁছে গেছে শ্মশানঘাট পর্যন্ত। অনেক জায়গায় গ্যাস-চালিত চুল্লি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি: বাধ্য হয়ে অনেক জায়গায় আবার চিরাচরিত কাঠের চিতায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটি পরিবেশ ও খরচ—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
৩. আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়াজ্বালানির দাম বাড়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিমানে ব্যবহৃত তেল বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম।
প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যের রুটে বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৬,০০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
৪. সোনা ও রুপোর বাজারে অস্থিরতাসাধারণত যুদ্ধের সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার চিত্রটা উল্টো। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কারণ: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নাও কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনার ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাম কিছুটা নিম্নমুখী। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতে, সেপ্টেম্বরের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম।
৫. লক্ষ্যমাত্রা ২০৪৭ ও জিডিপি-তে ধাক্কাভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে 'উন্নত দেশ' হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তার জন্য বছরে ৮-১১% হারে জিডিপি বৃদ্ধি প্রয়োজন।
আশঙ্কা: তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের উপরেই থাকে, তবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ০.৬০ শতাংশ (৬০ বেসিস পয়েন্ট) কমে যেতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা।
এখন উপায় কী ?বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে কিছু বিকল্প পথ খোলা আছে:
বিকল্প জ্বালানি: সৌর ও বৈদ্যুতিক শক্তির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়ানো।
কৌশলগত সঞ্চয়: ভারতের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
কূটনৈতিক তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা।
