Rajesh Exports SEBI Case : ১৫ লাখ কোটির হিসেব কারচুপির অভিযোগে সেবির নজরদারির মুখে পড়েছে রাজেশ এক্সপোর্টস (Rajesh Exports SEBI Case)। রিপোর্ট বলছে, এই কোম্পানিতেই বড় বিনিয়োগ (Investment) রয়েছে রাষ্টায়ত্ত সংস্থা লাইফ ইনস্যুওরেন্স কর্পোরেশনের (LIC)। যার ফলে LIC-সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা এখন ঝুঁকির মুখে। যদিও LIC নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাজেশ এক্সপোর্টসের চেয়ারম্যান।  কী বলেছেন রাজেশ এক্সপোর্টের চেয়ারম্যানরাজেশ এক্সপোর্টে LIC-র বিনিয়োগ নিয়ে মুখ খুলেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতা। তার কোম্পানির সঙ্গে LIC-র সম্পর্ক নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন তিনি। মেহতার দাবি, এলআইসি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও গত দুই দশক ধরে বাজার থেকে তাদের কোম্পানির শেয়ার কিনেছে। এর পিছনে প্রোমোটার বা সংস্থার কোনও হাত নেই। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন রাজেশ মেহতা।

Continues below advertisement

এলআইসি-র সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেইসংস্থায় এলআইসি-র বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে রাজেশ মেহতা বলেছেন, 'আমাদের সঙ্গে এলআইসি-র কোনও যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই। এমনকি এলআইসি-র অফিস কোথায়, আমরা তা-ও জানি না। সেকেন্ডারি মার্কেট (শেয়ার বাজার) থেকে শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব। ওরা বাণিজ্যিক দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে আমাদের শেয়ার নিয়েছে।'

কতদিন ধরে রাজেশ এক্সপোর্টের শেয়ার কিনছে কোম্পানিএই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি রাজেশ মেহতা। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এলআইসি এই শেয়ারগুলি গতকাল বা গত বছর কেনেনি। গত ২০ বছর ধরে ধীরে ধীরে খোলা বাজার থেকে তারা এই অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে। বর্তমানে রাজেশ এক্সপোর্টসে এলআইসি-র ১০.৮০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।

Continues below advertisement

কারা পেয়েছেন শেয়ার পড়ে যাওয়ার সুবিধা সম্প্রতি ৩ জুন থেকে সোমবার পর্যন্ত ১৪ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে রাজেশ এক্সপোর্টের শেয়ার। কোম্পানির শেয়ারের দাম এতটা পড়ে যাওয়ার পরেও মেহতার দাবি, এলআইসি এখনও লোকসানে নেই। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে কম দামে তারা শেয়ার কিনেছে। তবে যদি এলআইসি-র ক্ষতি হয়েও থাকে, তাহলেও তার সুবিধা সাধারণ মানুষই পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার কথায়, "শেয়ার বাজারে একজন লোকসান করলে অন্যজন লাভবান হন। এলআইসি যদি টাকা হারিয়েও থাকে, তাহলে সেই টাকা পেয়েছেন সাধারণ ভারতীয় জনগণ, যাদের কাছ থেকে এলআইসি ওপেন মার্কেটে শেয়ার কিনেছিল। এর মধ্যে ভুলের কী আছে? যারা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি সাধারণ মানুষের লাভের বিরোধী?"

প্রোমোটাররা কোনো সুবিধা পাননিসংস্থার প্রোমোটাররা এই বিনিয়োগ থেকে কোনও অনৈতিক সুবিধা পাননি দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, "কোনও প্রোমোটার কখনও এলআইসি-র কাছে নিজের শেয়ার বিক্রি করেননি। কোম্পানি এলআইসি-কে আলাদা করে কোনও শেয়ার প্লেসমেন্টও দেয়নি। ফলে এলআইসি-র এই শেয়ার কেনায় কোম্পানির বা প্রোমোটারদের আর্থিক কোনও লাভ হয়নি।"

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এলআইসি যদি এখন রাজেশ এক্সপোর্টস থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নেয়, তবে এই স্টকের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কিন্তু এই আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন মেহতা। তিনি বলেন, এলআইসি যদি বিক্রি করতে চায়, তবে বিক্রি করুক। সাধারণ মানুষ কম দামে আবার সেই শেয়ার কিনে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সেবি নিয়ে কী দাবি করেছে রাজেশ এক্সপোর্ট এবার SEBI-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করলেন ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’-এর চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতা। দেশের অন্যতম বৃহৎ সোনা পরিশোধক ও গয়না রফতানিকারী এই সংস্থার দাবি, হিসাবনিকাশের একটি মস্ত বড় ভুলের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি তাদের বিরুদ্ধে আয় বাড়িয়ে দেখানোর ভুল অভিযোগ এনেছে। এমনকি সংস্থার পক্ষ থেকে সেবি-কে ৩০০ থেকে ৪০০ জিবি (GB) নথিপত্র পাঠানো হলেও, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আসল ফাইলগুলো খুঁজেই পায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাজেশ মেহতা বলেন, "আমরা সেবি-কে লক্ষ লক্ষ পাতার প্রায় ৩০০-৪০০ জিবি নথি দিয়েছিলাম। আমার মনে হয় তারা সঠিক নথিপত্রগুলি মিস করে গেছে। আর সেই কারণেই এই বিশাল বিভ্রান্তির তৈরি হয়েছে।"

আরও পড়ুন : ১৫ লাখ কোটির কেলেঙ্কালির অভিযোগ, রাজেশ এক্সপোর্টস বলছে, ৪০০ জিবির ফাইল দেখতে পায়নি সেবি