Anil Ambani News : এক সময় কোম্পানির টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল বাজার (Stock Market) বিশেষজ্ঞরা। সেখান থেকে একেবারে ঘুরে দাঁড়াল অনিল অম্বানির রিলায়েন্স পাওয়া (Reliance Power)। হিসেব বলছে, গত ১৮০ দিনে এই স্টকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।
এই স্টকে আশা দেখছেন বিনিয়োগকারীরাশুক্রবার আবারও অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন ADAG গ্রুপের কোম্পানিগুলি শেয়ার বাজার কাঁপিয়ে দিল। রিলায়েন্স পাওয়ার, রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স এবং রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, এই তিনটি শেয়ারই অসাধারণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, রিলায়েন্স পাওয়ার এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল, একদিনে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এই স্টক। এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে তুলেছে। এর পাশাপাশি প্রশ্নও উঠছে- এই উত্থান কি কেবল একটি আভাস নাকি দীর্ঘ প্রতিযোগিতার সূচনা?
শেয়ারে দুরন্ত গতিশুক্রবার, রিলায়েন্স পাওয়ারের শেয়ারের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স ১০ শতাংশ বেড়ে ৩.৬৪ টাকায় বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের শেয়ারের দাম ১০.৫ শতাংশ বেড়ে ৩১৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই উত্থান কেবল বাজারের মেজাজের কারণে নয়, বরং দৃঢ় কারণ এবং কোম্পানির সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণেও।
এই বৃদ্ধির পিছনে রিলায়েন্স পাওয়ারের ভূমিকা রয়েছেআমরা যদি ঘনিষ্ঠভাবে দেখি, তাহলে এই উত্থানের পিছনে দুটি প্রধান কোম্পানি রয়েছে, রিলায়েন্স পাওয়ার এবং রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। উভয় কোম্পানি অতীতে ভারী ঋণ ও দুর্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কিন্তু এখন তাদের কৌশল, আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাজারে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।
রিলায়েন্স পাওয়ারের কথা বলতে গেলে, এটি এখন কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হিসেবেই নয় বরং একটি প্রধান রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি, রিলায়েন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান NU Suntech 930 MW সৌরশক্তি এবং 1860 MWh ব্যাটারি স্টোরেজের জন্য 25 বছরের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রায় 10,000 কোটি টাকার এই প্রকল্পটি এশিয়ার বৃহত্তম সৌর + স্টোরেজ প্ল্যান্ট হবে।
একই সময়ে, NU Energies একটি 350 MW সৌর + 700 MWh স্টোরেজ প্রকল্পও অধিগ্রহণ করেছে, যা কোম্পানির পরিষ্কার শক্তি পোর্টফোলিওকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে, ভুটান সরকারের সাথে 500 MW সৌর প্রকল্পের জন্য একটি টার্ম শিট স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০০০ কোটি টাকার এই যৌথ উদ্যোগটি ভুটানে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ।
মুনাফায় ফিরে আসা নতুন তহবিল ও শক্তিশালী ব্যালেন্স শিটমার্চ ত্রৈমাসিকে রিলায়েন্স পাওয়ার ১২৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যেখানে গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির লোকসান ছিল ৩৯৭ কোটি টাকা। ব্যয় হ্রাস এবং আর্থিক ব্যয় হ্রাসের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, রিলায়েন্স পাওয়ার মে মাসে ৩৯২ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে, যা রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং বাসেরা হোম ফাইন্যান্সের ওয়ারেন্ট রূপান্তরের মাধ্যমে এসেছে। এটি আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছে ও কোম্পানির আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)