টাকার পতন
বড় পতন ভারতীয় মুদ্রার। সপ্তাহের শেষে বিরাট ধাক্কা ভারতীয় অর্থনীতিতে (Indian Economy)। বিরাট নেমে গেল আমেরিকান ডলারের তুলনায় টাকার দর (Rupee Hits All Time Low)। এতটা পতন ইদানীং কালে দেখা যায়নি। শুক্রবার সকালে ১ ডলার সমমূল্য হল ভারতের ৯৪.২৮ টাকা। কিছুদিন আগে ৯৩.১৫ হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় টাকা। আর শুক্রবার আরও পড়ল টাকা-ডলার বিনিময় মূল্য। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। তার জেরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। তাল দিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তার জেরেই শুক্রবার ( ২৭শে মার্চ ) ভারতীয় রুপির দর ডলারের নিরিখে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেল।
টাকার রেকর্ড পতন কেন?
- আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি করে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়েছে।
- বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার এই পরিবেশে, বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে অর্থ সরিয়ে মার্কিন ডলারে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে ডলারের চাহিদাও বেড়েছে। ডলারকে একটি 'নিরাপদ আশ্রয়' হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
- বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে চলেছেন। ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন।
- ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাই দেশে জ্বালানী সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
- ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম পড়লে, অপরিশোধিত তেল থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল, মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী - সব কিছুই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, কারণ ভারত এই জিনিসগুলির বৃহৎ পরিমাণে আমদানি করে, যার মূল্য ডলারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। রুপি দুর্বল হলে ভারতকে ডলারের বিপরীতে বেশি অর্থ দিতে হবে।
- সাধারণত, মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ভবিষ্যতে রেপো রেট বাড়াতে পারে। এর ফলে আপনার ঋণের ইএমআই (EMI) আরও বাড়তে পারে।
- টাকার দরে পতনের ফলে বিদেশ ভ্রমণ এবং বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার খরচ বাড়তে পারে, কারণ এখন ডলারের বিপরীতে বেশি রুপি দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
পরপর বৃদ্ধির পর আজ কমল সোনার দাম, কলকাতায় কত?
