India US Trade Relation : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির (Trump Tariff) পর এবার ভারতকে সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের (US President) বিজনেস অ্যাডভাইজর। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এই হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো (Peter Navarro)। কী বলেছেন তিনি ?   

কী বলেছে ট্রাম্পের উপদেষ্টাসম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো 'রিয়েল আমেরিকা'স ভয়েস' শো-এর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত শুল্কের 'মহারাজা'। যদি নয়াদিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার কোনও পর্যায়ে "আসতে" না পারে, তাহলে ভারতের জন্য "ভালো হবে না"। এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি তিনি, একধাপ এগিয়ে নাভারো বলেছেন, ''মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বের যেকোনও বড় দেশের তুলনা করলে ভারত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। আমাদের এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।" 

রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে বড় দাবিট্রাম্প্রে বাণিজ্য উপদেষ্টার মতে, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার আগে ভারত কখনও মস্কো থেকে তেল কেনেনি। এর আগে সামান্য কিছু ফোঁটা তেল কিনেছিল। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার রিফাইনাররা ভারতে চলে আসে ও রাশিয়ার তেল থেকে মুনাফা অর্জন শুরু করে। যে কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকার করদাতাদের শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতের জন্য আরও অর্থ পাঠাতে হয়।

রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টিঐতিহাসিকভাবে, ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য আমদানিকারক ছিল না, কারণ তারা মধ্যপ্রাচ্যের উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর এবং জি-২০ দেশগুলি ক্রেমলিনের তেলের দাম কমিয়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার আরোপ করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন যে- এরপরই ভারত রাশিযার থেকে ছাড়ে পণ্য কিনতে শুরু করে। 

হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত "মহান" বাণিজ্য চুক্তিগুলির তালিকা তৈরি করে বলেছেন, "এই সমস্ত দেশ আমাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে" কারণ তারা বুঝতে পারে যে- তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যধিক সুবিধা নিচ্ছে ও তাদের আমেরিকান বাজারের প্রয়োজন।

ভারতের জন্য ভাল হবে নানোভারো বলছেন, "আমি মনে করি- ভারতকে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একটা পর্যায়ে আসতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভাল রাখলেও এর পরিণতি ভারতের জন্য ভাল হবে না।"