কলকাতা : আগামী ১ ফেব্রুয়ারি । আর ঠিক এক সপ্তাহ পর দেশের সাধারণ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রতিবার বাজেট পেশের আগে সকলেরই কিছু প্রত্যাশা থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। এই আশা-প্রত্যাশার মধ্যেই ফিরে দেখা স্বাধীনোত্তর ভারতে বাজেট পেশের বিভিন্ন অধ্যায়কে। সরকার বদলেছে, বদলেছে মন্ত্রী, বদলেছে অর্থনৈতিক ভাবনা-চিন্তা। তার মধ্যে বাজেট পেশের কয়েকটি অধ্যায়কে বিশেষ বিশেষ কারণে মনে রেখেছে দেশ। যেমন 'ব্ল্যাক বাজেট'। বিশ্ববাসীর কাছে এই নামেই পরিচিত 1973-74 অর্থনৈতিক বছরে পেশ হওয়া বাজেট।
১৯৭৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সেই বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী (Finance Minister Yashwantrao B Chavan)। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সে-সময় দেশ একটি গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। এই বাজেট ছিল চূড়ান্ত ঘাটতির। আর্থিক ঘাটতি ছিল বিরাট ! এমন দুর্দশার সময় বোধ হয় আর কোনও বাজেটে দেখেনি দেশ।
সে সময় দেশের অর্থনীতি পরিস্থিতি ছিল সঙ্কটজনক। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর দেশ আর্থিকভাবে ধাক্কা খেয়েছিল ভয়ঙ্করভাবে। সেই সঙ্গে ১৯৭৩ সালে বর্ষায় বৃষ্টির পরিমাণও ছিল মারাত্মক কম। কৃষিপ্রধান ভারতে বর্ষার গতিপ্রকৃতির উপর অনেকটাই নির্ভর করে অর্থনীতি। সেবার বিভিন্ন রাজ্যে দেখা গিয়েছিল ভয়ঙ্কর খরা-পরিস্থিতি। এসব কারণে সরকারকে আয়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করতে হয়। ফলে দেশকে বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে হয়।
এই বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী যশবন্তরাও বলেছিলেন যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, যে এমন ঘাটতি বাজেট পেশ করতে হচ্ছে। সরকারের কোষাগারে অর্থের ঘাটতি ছিল ভয়ঙ্কর। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সরকারী স্কিম বাদ দিতে হয়।
এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৫০ কোটি টাকা। যখন সরকারের আয় কম এবং ব্যয় বেশি, তখন বাজেটে ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এমন ভয়ঙ্কর ঘাটতির কারণ খরা এবং খাদ্য সংকট। এই জোড়া ফলায় দেশের আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
ওই বাজেটে জাতীয় বিমা সংস্থা ও কয়লা খনির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই সময় কয়লার চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি। তাই কয়লা জোগানের ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য এই টাকা বরাদ্দ করা প্রয়োজন হয়েছিল। এই বিপুল ঘাটতির জন্যই ওই বাজেটকে ব্ল্যাক বাজেট বলা হয়ে থাকে।