পুণে: চার বছরের মেয়েকে ধর্ষণ। তার পর পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন। ভয়ঙ্কর ঘটনা মহারাষ্ট্রের পুণেতে। একরত্তি মেয়েকে ধর্ষণ করে খুনে অভিযুক্ত ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। সেই নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা হাতেনাতে বিচারের দাবি তুলছেন। প্রশ্ন উঠছে নারীসুরক্ষা নিয়েও। (POCSO Case)
মহারাষ্ট্রের পুণের ভর তালুক থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, খাবারের লোভ দেখিয়ে মেয়েটিে গোশালায় নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধ। সেখানে মেয়েটিকে প্রথমে ধর্ষণ করে সে। তার পর পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে। দেহ লুকিয়ে রাখে সেখানেই। গোবর চাপা দিয়ে দেয়। (Minor Girl Assaulted)
আরও পড়ুন: কলকাতায় আইপ্যাকে হানা দেওয়া ইডি অফিসার পুরস্কৃত, হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
মেয়েটির খোঁজ না পেয়ে বাড়ির লোকজন তল্লাশি শুরু করেন। একটি বাড়িতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। আর তাতেই অভিযুক্তের সঙ্গে মেয়েটিকে দেখা যায়। এর পর গ্রামের লোকজন থানায় ছোটেন। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই ওই বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মেয়েটির রক্তাক্ত, ছিন্নভিন্ন দেহও উদ্ধার হয়। এদিন পুণে-বেঙ্গালুরু হাইওয়ে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনও রকম ঢিলেমি ছাড়া, অভিযুক্তকে হাতেনাতে অপরাধের সাজা দিতে হবে বলে দাবি জানান।
আরও পড়ুন: কলকাতায় আইপ্যাকে হানা দেওয়া ইডি অফিসার পুরস্কৃত, হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
শুক্রবার সন্ধেয় যখন মেয়েটির ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে আনা হয়, সেই সময়ও ভোক্ষে ফেটে পড়েন সকলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিংহ গিল জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। ফাস্টট্র্যাক কোর্টে বিচার হবে অপরাধের। পুলিশ কোনও খামতি রাখবেন না বলেও সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
তবে ক্ষোভ মিটছে না স্থানীয়দের। এক সমাজকর্মী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলে। নাগরিকরা আইন মেনে চলতে বাধ্য হলেও, এই ধরনের ঘটনায় ফাস্টট্র্যাক কোর্টের ব্যর্থতার নজির রয়েছে। তাই আস্থা রাখতে পারছেন না কেউ। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে এই মুহূর্তে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে এই ঘটনাই নয় শুধু। ৩০ এপ্রিল গ্রেটার নয়ডায় ৩৮ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সে ১৪ বছর বয়সি সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করে, জঙ্গলে দেহ ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের মুখ্য়মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই প্রথম এমন ঘটনায় নাম জড়াল না ওই বৃদ্ধের। ৫-১০ বছর আগেও দু'-দু'টি ঘটনায় নাম জড়ায়। তার পরও কী করে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, উঠছে প্রশ্ন।
