পটনা: খাবার পেতে দেরি হয়েছে। কুড়ুল দিয়ে বৌদির মাথা কেটে নিল দেওর। ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল বিহারে। শুধু মাথা কেটে নেওয়াই নয়, বৌদির কামা মুণ্ড নিয়ে গ্রামে হেঁটে বেড়ায় ওই যুবক। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে একটি গাছে ঝুলি দেয় মুণ্ডটি।  গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। (Bihar Man Beheads Sister-in-Law)

Continues below advertisement

বিহারের জাহানাবাদ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানকার ইমাদপুর গ্রামের ঘটনা। নিহত গৃহবধূর নাম অংশু কুমারী। বয়স মাত্র ২২ বছর। বুধবার সকালে স্বামী ধর্মেন্দ্র কুমার মাঠে ধান চাষ করতে গিয়েছিলেন। কাজে বেরিয়েছিলেন শ্বশুর-শ্বাশুড়িও। বাড়িতে একাহাতেই রান্নাবান্না সারছিলেন অংশু। (Crime News)

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে সরকার আয়োজিত গণবিবাহ অনুষ্ঠানে TMC লেখা, ঘাসফুল আঁকা ম্যাট্রেস বিতরণ, জানাজানি হতেই…

Continues below advertisement

সেই সময় দুপুর নাগাদ আচমকাই বাড়িতে হাজির হয় দেওর কুণাল। অংশু প্রথমে তাঁকে জল দেন। কিন্তু খাবার পরিবেশনে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। দেওরকে খেতে দেওয়ার সময় অংশুর হাতে মাটি লেগেছিল। সেই নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়া হাতাহাতিতে পরিণত হয় কিছু ক্ষণের মধ্যেই। এর পর কুড়ুল তুলে এনে বৌদির গলায় কোপ বসায় কুণাল। আর তাতেই ধড় থেকে মাথা আলাদা হয়ে যায় অংশুর।

স্থানীয়দের দাবি, বৌদির মাথা কেটে নেওয়ার পর পালানো তো দূর, বরং বাড়িতেই বেশ কিছু ক্ষণ বসেছিল কুণাল। এর পর কাটা মুণ্ড নিয়ে গ্রামে বের হয় সে। বেশ কিছু দূর হেঁটে গিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলের সামনে একটি গাছে কাটা মুণ্ডটি ঝুলিয়ে দেয় সে। গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় গ্রামে। স্থানীয় লোকজনই থানায় খবর দেয়। সেই পরিস্থিতিতে আবার কাটা মুণ্ড গাছ থেকে খুলে বাড়িতে নিয়ে আসে কুণাল। নিথর দের পাশে বসিয়ে রেখে দেয়। 

আরও পড়ুন: হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল, অস্ত্রোপচারের আগেই দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক, দেব আনন্দের ছেলের মৃত্যুতে হৃদরোগ নিয়ে বাড়ল উদ্বেগ

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুবিশ বাহিনী। কুণালকে গ্রেফতার করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় কুড়ুলটিও। ঘটনার সময় অংশুর স্বামী জমিতে ধান রোপণ করছিলেন। তিনি কিছুই জানতেন না। খবর দেওয়া হয় তাঁকে। অংশুর বাপের বাড়িতেও খবর পৌঁছয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বছর খানেক আগেই ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে হয় অংশুর। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। দেওর, শ্বশুরের সঙ্গে অংশুকে কথা বলতেও নিষেধ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। 

গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, কুণাল পুলিশের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সকাল সকাল দৌড়তেও যেত সে। তবে কুণাল নেশাও করত বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যে গাছে অংশুর কাটা মুণ্ড ঝুলিয়ে দিয়েছিল কুণাল, সেই গাছও কেটে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।