নয়াদিল্লি: রাজধানীর বুকে ফের ভয়ঙ্কর নারী নির্যাতনের ঘটনা। বাড়িতেই IIT গ্র্যাজুয়েট কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। ধর্ষণের পর ফোনের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে, শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ তরুণীকে। গৃহ পরিচারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাসখানেক আগে অভিযুক্তকে কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কৈলাস থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। বুধবার ২২ বছর বয়সি IIT গ্র্যাজুয়েট তরুণীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করে খুন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তরুণীর বাবা শীর্ষস্তরের আমলা, IRS অফিসার। ঘটনার সময় তরুণী বাড়িতে একা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যে গৃহ পরিচারককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার বয়স ১৯ বছর। তবে দরজা ভেঙে বা জোর করে অভিযুক্ত বাড়িতে ঢুকেছিল বলে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
অভিযুক্তের নাম রাহুল মীনা। পুলিশের যুগ্ম কমিশনাপ বিজয় কুমার বলেন, “তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সারাক্ষণ অনলাইন গেম খেলত। এলাকার অন্য পরিচারকদের থেকে টাকাও ধার নিত সে। কিন্তু কারও টাকাই ফেরত দেয়নি। সেই জন্যই কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।”
দিল্লির দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। সেখানেই সে গা ঢাকা দিয়ে ছিল বলে খবর। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন এবং ডাকাতির মামলা দায়ের হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজও হাতে পেয়েছে পুলিশ, যাতে সকাল ৬টা বেজে ২৮ মিনিটে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লোকজন তরুণীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বাড়িতে। গোটা বিষয়টি সন্দেহজন ঠেকে তাঁদের। সেই মতো পুলিশে খবর দেন। IIT দিল্লি থেকে স্নাতক হন ওই তরুণী। UPSC-র প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তরুণী নৃত্যশিল্পীও ছিলেন। একাধিক পুরস্কার জিতেছেন। তাঁর দাদা বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত। মা পেশায় চিকিৎসক।
অভিযুক্ত রাহুল আদতে রাজস্থানের আলওয়ারের বাসিন্দা। আগেও তার বিরুদ্ধে সেখানে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একদিন আগেই আলওয়ার থেকে সে দিল্লি পৌঁছেছিল এবং বাড়ির একটি বাড়তি চাবি ছিল তার কাছে। নির্যাতিতার বাবার দফতরে মেতায়েন এক সুপারের সুপারিশেই অভিযুক্তকে কাজে রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির সবকিছু নখদর্পণে ছিল অভিযুক্তের। তাই বাড়ির প্রত্যেক ফ্লোরে আঁটোসাটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও, নির্যাতিতা যেখানে ছিলেন, সেখানে পাসওয়ার্ড সম্বলিত চার-চারটি লক থাকলেও তার অসুবিধা হয়নি। বুধবার নির্যাতিতার মা-বাবা জিমে গিয়েছিলেন। সেই সময় অপরাধ ঘটায় সে। দিল্লি পুলিশের ১৫টি টিম মিলে তাকে খুঁজে বের করে বলে জানা গিয়েছে।
