বেঙ্গালুরু: বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে যৌন নির্যাতনের শিকার দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণী। বিমানবন্দরের এক গ্রাউন্ড স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তল্লাশির নামের অভিযুক্ত যৌন নিগ্রহ করেন বলে দাবি তাঁর। ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Korean Woman Assaulted in Bengaluru)

Continues below advertisement

সোমবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোরিয়া যাচ্ছিলেন ওই তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে অভিবাসন প্রক্রিয়াও সব মিটে গিয়েছিল তাঁর। হঠাৎই আফান আহমেদ নামের ওই গ্রাউন্ড স্টাফ তাঁর তল্লাশি নিতে আসে। তাঁর ব্যাগপত্র থেকে ‘বিপিং সাউন্ড’ আসছে বলে জানায়। পার্সোনাল সিকিওরিটি চেক হবে বলে জানানো হয় তাঁকে। (Bengaluru Airport Molestation Case)

ওই তরুণীর বক্তব্য, “আমি চিন্তায় পড়ে যাই। নাশকতা সংক্রান্ত ঝামেলায় না ফেঁসে যাই, চিন্তা হচ্ছিল। তাই পার্সোনাল সিকিওরিটি চেকের জন্য রাজি হয়ে যাই। ওই যুবক পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই কথা বলছিল। এমন ভাবে অভিযোগ করছিল, যাতে গুরুতর কিছু ঘটেছে মনে হতে শুরু করে আমার।”

Continues below advertisement

ওই তরুণীর দাবি, “এর পর আমাকে পুরুষদের শৌচাগারে নিয়ে যায় আহমেদ। সেখানে আমাকে দুই পাশে হাত ছড়িয়ে ‘T’ পজিশনে দাঁড়াতে বলে ও। তল্লাশির নামে সেই সময় যৌন নিগ্রহ করে। বার বার আমার বক্ষ এবং যৌনাঙ্গ স্পর্শ করছিল। পিছন থেকে আমাকে আলিঙ্গনও করে ও। বুঝতে পারছিলাম অন্য়ায় হচ্ছে। নিরাপদে বেরিয়ে আসার জন্য নিজেকে শান্ত রেখেছিলাম আমি। এর পর বেরিয়ে আসি।”

ওই তরুণী জানিয়েছেন, শৌচাগার থেকে বেরিয়ে বিমানবন্দরের কর্মীদের বিষয়টি জানান তিনি। তাঁদের সহযোগিতায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কর্মীরা তাঁকে থানায় যেতে সাহায্য় করেন এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরাও পূর্ণ সহযোগিতা করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

গোটা অভিজ্ঞতা স্মরণ করে এখনও কেঁপে উঠছেন ওই তরুণী। কিন্তু এর জন্য ভারতকে দুষছেন না তিনি। তিনি জানিয়েছেন, এই একটি ঘটনা দিয়ে গোটা দেশকে বিচার করা যায় না। কিন্তু বিমানবন্দরের মতো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে, বিদেশি নাগরিকরা কী করে নিরাপদ বোধ করবেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ওই তরুণীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর, ২০ মিনিটের মধ্যেই আহমেদকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। ধৃত আহমেদ এয়ার ইন্ডিয়ার গ্রাউন্ড অ্যান্ড কার্গো পরিষেবা বিভাগে কর্মরত ছিল। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।