পুনে: মনে আছে সোনম ও রাজার কথা ? সেই মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে আর কোনওদিন বাড়ি ফেরেননি রাজা। ফিরেছিল তাঁর মৃতদেহ। আবারও সেই এক চিত্র দেখা দিল পুনেতে। তবে গল্পে একটু পরিবর্তন আছে। রাজা খুন হয়েছিলেন বিয়ের পর, আর পুনের কেতনকে খুন হতে হল বিয়ের আগে। পুনের এই বাগদত্তা খুনের ঘটনা গোটা দেশকে ইতিমধ্যেই নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য বাগদত্তাকে এভাবে পরিকল্পিত খুন ভাবতেই পারছেন না অনেকে।

Continues below advertisement

গত ১৮ই জুন ২৬ বছর বয়সী কেতনকে তার ২০ বছর বয়সী বাগদত্তা এবং তার ২২ বছর বয়সী প্রেমিক লোনাভলার বিখ্যাত লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুন করে। ফেব্রুয়ারিতে কেতনের সঙ্গে বাগদান হয়েছিল এবং নভেম্বরে জয়পুরে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সিয়া কেতনের পরিবারকে জানায় ছবি তোলার সময় দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশের জেরায় ধরা পড়ে যায় গোপন সত্যি। আরও পড়ুন - বাগদত্তা কেতনকে খুন ২০-এর তরুণীর ! হত্যার আগে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা, ঘটনা জানলে শিউরে উঠবেন

তবে এই হত্যা কাণ্ডের আগে কেতনকে নিয়ে সিয়ার বেশ কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে, যা ইতিমধ্যে খুব ভাইরাল সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়াতে। হইচই ফেলেছে এই পোস্টগুলি। হবু স্বামীকে নিয়ে একের পর এক রোমান্টিক পোস্ট নিখুঁত প্রেমের চিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছিল। বিয়ের প্রস্তাব, ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে ফুল উপহার, আলিঙ্গন, নাচ, সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা এবং বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বিয়ের ভিডিও ও ছবি শেয়ার করতেন সিয়া। কিন্তু এই 'চিত্রনাট্যের' পেছনে 'উপসংহার' যে অন্যকিছু ছিল তা গুনাক্ষরে বুঝতে পারেননি কেতন। রোমান্টিকতার অভিনয়ে বেঁধে রেখে কেতনের জীবন শেষ করে দিলেন হবু স্ত্রী সিয়া। বিশ্বাসের পরিণতি মৃত্যু। 

Continues below advertisement

ফেব্রুয়ারি মাসে সিয়া এবং কেতনের বাগদান হয়েছে। পরিবারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় নভেম্বরে প্রাইভেট জেট এবং রাজপ্রাসাদ ভাড়া করে এলাহীভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বাগ্‌দানের এক মাস পর, সিয়া তাঁর ইনস্টাগ্রামে মোমবাতি জ্বালানো একটি কেকের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘‘আমার হৃদয় তার আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক মাস পূর্তি উদ্‌যাপন করছি।’’ কিন্তু প্রশ্ন, মাস পূর্ণ হতেই বদলে যায় হৃদয়ের ঠিকানা?

সিয়ার জন্মদিন নিয়ে কেতনও পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। ক্যাপশন ছিল, ‘‘ওই হাসি’’, সঙ্গে ছিল একটি হার্ট ইমোটিকন। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি এবিপি আনন্দ। তবে ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কেতন সিয়াকে গাড়ির ভেতরে একটি ফুল দিচ্ছেন। ফুল পেয়ে আনন্দ ফুটে ওঠে সিয়ার চোখে-মুখে। এর পর তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, আলিঙ্গন করেন। আর ক্যাপশনে সিয়া লিখেছিলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, আমি তোমায় পছন্দ করি। কথাটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে কেতন।’’

কিন্তু এই সবকিছুর পর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে এভাবে হত্যা মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের কেউ। জেক কেতনের মা নিজের মেয়ের মত ভালোবাসতেন, সেই মেয়ে যে এভাবে পেছন থেকে ছুরি মারবে কল্পনা করতে পারেননি কেউ।