লখনউ: নাবালিকাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত। হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। কিন্তু রাজস্থান থেকে পালিয়ে উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে পালিয়ে এসেছিল সাসপেন্ড হওয়া অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল। মহিলার বেশ ধরে, বোরখা পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃন্দাবনে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল অভিযুক্ত। (Minor Girl Assaulted by Police Constable)
রাজস্থানের ঢোলপুরের বাসিন্দা রাজেন্দ্র সিসৌদিয়া ওরফে রামভরোসে। সে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে চাকরি করত। গত ১৫ ডিসেম্বর সে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পুলিশ সুপার বিকাশ সাংওয়ান জানিয়েছেন, চাকরি পাইয়ে দেবে বলে ১৬ বছরের নাবালিকা ও তার ভাইকে নিজের বাড়িতে ডেকেছিল রাজেন্দ্র। ছেলেটিকে বাজারে পাঠিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে। (Police Constable Assaults Minor Girl)
জানা গিয়েছে, মেয়েটির চিৎকার শুনে পাড়া-পড়শিরা রাজেন্দ্রর বাড়িতে ছুটে আসেন। বাড়ি ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানান সকলে। কিন্তু তার মধ্যেও সকলের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সফল হয় রাজেন্দ্র। এর পর চাকরি থেকেও সাসপেন্ড করা হয় তাকে। কিন্তু কিছুতেই রাজেন্দ্রর নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। বার বার ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেড়াচ্ছিল সে।
সম্প্রতি আগ্রা, লখনউ, এমনকি গ্বালিয়রেও রাজেন্দ্রর উপস্থিতির কথা জানতে পারে পুলিশ। কিন্তু প্রত্যেক বারই পুলিশকে বোকা বানিয়ে পালিয়ে যেতে সফল হচ্ছিল রাজেন্দ্র। পুলিশ সুপার সাংওয়ান জানিয়েছেন, বার বার ছদ্মবেশ ধারণ করছিল রাজেন্দ্র। কখনও ট্র্যাকস্যুট, কখনও আবার স্যুট-বুট পরে VIP অথবা উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিয় দিচ্ছিল নিজের। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছিল পুলিশকে।
রাজেন্দ্রর নাগাল পেতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছিল পুলিশকে। শেষ পর্যব্ত ব্রজভূম বৃন্দাবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে রাজেন্দ্রকে বোরখা পরে থাকতে দেখা গিয়েছে। মাথাও ঢাকা হিজাবে। ঠোঁটে রয়েছে লিপস্টিক। রাজেন্দ্রর বিরুদ্ধে POCSO ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, আরও একাধিক মহিলাকে হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।