কলকাতা : যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে না পারলে, অযোগ্যদের চাকরি বাতিল করা হোক। তাহলেই চাল থেকে কাঁকর আলাদা করা যাবে। এবার SSC-কে ডেডলাইন বেঁধে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা।  শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি, তাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে আন্দোলনকারীদের। রাত গড়াতেই বাড়ে আন্দোলনের উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা যোগ্য বঞ্চিত শিক্ষক, সময়মতোই বেতন পাবেন। দ্রুত রিভিউ পিটিশন করবে রাজ্য সরকার। এই পরিপ্রেক্ষিতে কী জানালেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ? 

'এটা বিষয়টা হয় আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের চোখে ধুলো দিয়ে , ভাঁওতা দিয়ে আজকের মতো বিষয়টাকে থামিয়ে চলে যাওয়া বা কেটে পড়া' । তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের যে অর্ডার, তার সঙ্গে এই যে যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকাপ্রকাশের ডিমান্ডের কোনও বিরোধিতা নেই, সম্পর্কও নেই। এটা একটা স্বচ্ছতার দাবি। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানালেন, 'মানুষ যে কোনও কারণেই  তুলতে পারে স্বচ্ছতার কারণে। স্কুলসার্ভিস কমিশনের অনেকদিন আগেই যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকাপ্রকাশের দরকার ছিল। তাঁরা সেটা করেননি বলেই, আজ শিক্ষকরা দাবি করছেন। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের সম্পর্ক কী ? সুপ্রিম কোর্ট কি কোনও কারণে বলেছেন, যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা প্রকাশ করা যাবে না ? যদি সেটা সুপ্রিম কোর্ট বলত ও তারপর এঁরা এই দাবি করতেন, তাহলে সেটা অন্যায্য দাবি হত আর তালিকাপ্রকাশ আদালত অবমাননা হত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তো তা বলেনি। .... আমি তো শুনেছি আপনারা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার মেনে চলছেন। চলছেন , চলুন। রিভিউ করবেন বলছেন, করুন। কিন্তু এই যে ডিমান্ড ফর ট্রান্সপারেন্সি, এইটা কেন করবেন না ?...এটা কাটিয়ে চলে যাবেন না।'

আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের অভিজিতের বার্তা 

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বলেন, 'আপনারা রাস্তা ছাড়বেন না। এই ভাঁওতাবাজিগুলো চিনে নিন। স্কুল সার্ভিস কমিশন যে বিবৃতি দিয়েছে, তা চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য'    

ব্রাত্যর বার্তা 

'যারা যোগ্য বঞ্চিত শিক্ষক, সময়মতোই বেতন পাবেন। দ্রুত রিভিউ পিটিশন করবে রাজ্য সরকার। তার আগে জলঘোলা করার ব্যাপার নেই। আইনজ্ঞদের অনুমতি না মেলাতেই তালিকা প্রকাশিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেই তালিকা প্রকাশিত হবে', মন্তব্য শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। 

কী জানাল কমিশন

স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলবে তারা। এ ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।