কলকাতা: সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ভবানীভবন থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে CID-র সামনে আজ হাজিরা দেন তৃণমূল সাংসদ। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। আগামী ১৪ জুন ফের হাজিরা দিতে হবে। এর আগে, তিন বার তাঁকে নোটিস দিয়েছিল CID. তবে প্রত্যেকবারই হাজিরায় এড়িয়ে যান। আদালতে রক্ষাকবচের জন্য আবেদন জানান তিনি। কিন্তু হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, তদন্তে সহযোগিতা করলেই রক্ষাকবচ পাবেন তিনি। সেই মতো এদিন CBI-এর কাছে হাজিরা দিলেন। (Abhishek Banerjee)

Continues below advertisement

CID সূত্রে জানা যাচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন একাধিক বার মেজাজ হারান অভিষেক। রেজলিউশন বুক সংক্রান্ত প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। সই জালিয়াতি নিয়ে প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেননি বলে খবর।  ১৪ জুন বেলা ১১টায় ফের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে পৌঁছন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষও। (TMC News)

বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, বিমানবন্দর থেকেই সোজা ভবানীভবনে পৌঁছবেন তিনি। কিন্তু তা না করে, কালীঘাটের বাড়িতে ঢুকে যায় অভিষেকের গাড়ি। বেশ কিছু ক্ষণ পর সেখান থেকে ভবানীভবনের দিকে রওনা দেন অভিষেক। সন্ধে ৬টার মধ্যে ভবানীভবনে পৌঁছতে বলা হয়েছিল তাঁকে। ১১ মিনিট আগেই পৌঁছে যান তিনি। 

Continues below advertisement

বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেককে তলব করেছিল CID. বিতর্কের সূচনা স্পিকারকে পাঠানো একটি চিঠিকে ঘিরে, যাতে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। রেজলিউশনের যে প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছিল স্পিকারকে, তাতে অভিষেকের সই ছিল। সই ছিল তৃণমূলের ৭০ বিধায়কের। কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। সেই মর্মে স্পিকারকে চিঠি দেন তাঁরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি খোলসা করেন। তদন্ত করে বিষয়টির গভীরে পৌঁছনো হবে বলে জানান। এর পরই তৃণমূলের বিধায়কদের বাড়িতে উপস্থিত হতে শুরু করেন CID-র গোয়েন্দারা। নোটিস দেওয়া হয় অনেককেই। নোটিস যায় অভিষেকের কাছেও, একবার নয়, তিন-তিন বার। অভিষেক আদালতে রক্ষাকবচ চাইতে গেলে, তাঁকে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে বলা হয়। আজই হাজির হতে বলা হয় CID-র সামনে।

সূত্রের খবর, অভিষেককে জেরা করতে বিশেষ প্রশ্নমালা তৈরি করেছিল CID. জানতে চাওয়া হয়, অরিজিনাল রেজলিশন বুকটি কোথায় গেল? বৈঠকে না থাকা বিধায়কদের সই রেজলিউশন বুকে কোথা থেকে এল? ওই বিধায়করা কি পরে গিয়ে সই করেন, না কি তাঁদের সই জাল করা হয়েছে? রেজলিউশনে অনেকের নাম লেখা ছিল বড়হাতের অক্ষরে, অর্থাৎ ইংরেজির ক্যাপিটাল লেটারে। ক্যাপিটাল লেটারে কী করে সই থাকতে পারে? জানতে চান রাজ্যের গোয়েন্দারা।