কলকাতা: অভিষেকের বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ। এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,' ভোররাতে এক ব্যক্তি আমার বাড়ির বাইরে এসে পাথর ছুড়তে থাকে। পাথর ছোড়ায় দোতলার জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। এটা শুধু আইনশৃঙ্খলার পতন নয়, এটা হিংসার বিপজ্জনক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। পুলিশ কোথায় ছিল? কার নির্দেশে এই দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে পার পেয়ে গেল? বাংলার এই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, ভয়ঙ্কর শাসনব্যবস্থা। সম্প্রতি পাস হওয়া গুন্ডা দমন বিল কি বিজেপি সমর্থিত অপরাধীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? বাংলার যে করুণ দশা হচ্ছে, তাতে আমি স্তম্ভিত, বিচলিত, উদ্বিগ্ন।'
আরও পড়ুন,অন্নপূর্ণা যোজনার আজ টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, কতজনের ‘নাম নথিভুক্ত’ হল? জরুরি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
দল ভেঙে টুকরো টুকরো। দলের ভিতরে-বাইরে সমালোচনা-নিন্দার মুখে তিনি। আছড়ে পড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। এই প্রেক্ষাপটে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর প্রায় ২ মাসের মাথায় হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নাম রাখলেন 'এক ডাকে অভিষেক'। মঙ্গলবার নিজেই সোশাল মিডিয়ায় সেকথা জানিয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ছবি দেওয়া , এই পোস্টে লেখা রয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্য়াচারে ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে মিথ্য়া মামলায় জড়িত কর্মীদের সুবিধার্থে। যে কোনও আইনি সহায়তায় জন্য যোগাযোগ করুন। একডাকে অভিষেক...। ভোটে ভরাডুবির ২৬ দিন পর, সোনারপুরে দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময়, রোষের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁকে আর প্রকাশ্য়ে সেভাবে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন করছেন, ভরাডুবির ২ মাস পর কেন কর্মীদের কথা মনে পড়ল অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের? বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিন্হা বলেন, ও দৌড়ে বেড়াচ্ছে। ওর PA দৌড়ে বেড়াচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ছক করেছিল। আদালত অভিষেক ব্য়ানার্জিকে অনুমতি দেয়নি। যে কারণে যখন বিদেশে পালাতে পারেনি আর MP, MLA, নেতা যখন ভেগে গেছে পার্টি থেকে ভাবছে এখন কর্মীদের যদি হেল্পলাইন তৈরি করে তাদের বসে আনা যায়।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, আমাদের এই টিমে অনেক MLA আছেন, যাঁরা বাড়ির সোনা বা অন্য জিনিস বন্ধক রেখে কর্মীদের জামিন করেছেন। ২ মাস বাদে কারও যদি ঘুম ভাঙে...অনলাইনে তো সে ফিলাডেলফিয়াতেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। আমার শুধু অনুরোধ এইসব হল কিন্তু যে ৪টাকার ১টাকা খরচ হল, চাটার্ড ফ্লাইটে। যে টাকা সেই টাকা কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিলে যে কর্মী আক্রান্ত তার মামলার খরচ+ঘুমটা বোধহয় একটু দেরিতে ভাঙল আরকি। দলের নম্বর টু অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এই উদ্য়োগ নিতে কি দেরি হয়ে গেল? বেলেঘাটা তৃণমূল কুণাল ঘোষ বলেন, সব নেতারাই যার যার মতো করে আছেন। তো এখন অভিষেক যদি সেরকম একটি হেল্পলাইন চালু করে থাকেন, এবং তাতে যদি কেউ উপকার পায় সেটা ভাল। না আমি ওরকম 'এক ডাকে', এটা তো একটা দল। ফলে একটা দলের একটা কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন। আমি ওরকম আলাদাভাবে, আমার কাছে যেটা খবর আসবে আমি নিশ্চিতভাবে সাহায্য করব। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এই উদ্য়োগে কি আদৌও কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ফিরবে?
