কলকাতা: পুরসভার স্ক্যানারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিস পৌঁছল। অভিষেকের মা, বাবা, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার ঠিকানায় পৌঁছল নোটিস। হরিশ মুখার্জি রোডের একটি এবং কালীঘাট রোডের দু'টি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির তিনটি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণির দুই ঠিকানায় নোটিস পৌঁছেছে।বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের কপি-সহ একাধিক নথি তলব করেছে পুরসভা। জানতে চাওয়া হয়েছে, বাড়তি নির্মাণ হয়ে থাকলে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। (Abhishek Banerjee House Notice)
হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত, ১৮৮A ঠিকানায় অবস্থিত 'শান্তিনিকেতনে' নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে সেখানে। কলকাতা পুর আইনের ৪০০-র ১ ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। অথবা কেন করা হল, নিয়মের অন্যথা হল কেন, জানাতে হবে। বাড়ির মধ্যে লিফট, এসক্যালেটর বসাতে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, জানাতে হবে তাও। অন্যথায় কলকাতা পুরসভা নিজেই বেআইনি অংশ ভেঙে দেবে। ভেঙে দেওয়ার খরচ-খরচাও আদায় করা হবে মালিকের কাছ থেকে। (TMC News)
১১৯, কালীঘাট রোডের বাড়িতেও নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। ৪০০-র ১ ধারায় নোটিস গিয়েছে সেখানে। একইভাবে বলা হয়েছে, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে সাত দিনের মধ্যে, অথবা কারণ দেখাতে হবে কেন করা হয়েছে। অন্যথায় পুরসভা নিজেই সেটা ভেঙে দেবে। সেই খরচ তোলা হবে মালিকের কাছ থেকে। নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নাম। ওস্তাদ আমির খান সরণিতে সংস্থার অফিসে নোটিস পৌঁছেছে।
১২১, কালীঘাটের রোডের বাড়িতে আবার মোট সাতটি নোটিস পৌঁছেছে, যার মধ্যে পাঁচটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। অন্যটি শুধু লতার নামে। প্রত্য়েকটি নোটিসই দেওয়া হয়েছে ৪০০-র ১ ধারায়। একই ভাবে বলা রয়েছে, বেআইনি নির্মাণের কারণ দেখাতে হবে, নয়ত ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় পুরসভাই ভেঙে দেবে এবং খরচ আদায় করবে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন: তোলাবাজি থেকে সন্ত্রাস…পালাবদল হতেই পর পর গ্রেফতার তৃণমূল নেতারা, তালিকায় আর কে কে?
প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণী (হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবর্তিত নাম), অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটি প্রেমিসেসের অ্যাসেসিকে নোটিস ধরিয়েছে পুরসভা। ৪৬-বি, ২৯-এ, ২৯-সি-তে নোটিস গিয়েছে। আর একটি বিল্ডিং ২৯-সি, সেখানে একটি নোটিস গিয়েছে অমিতের নামে। লতা এবং অমিতের নামে আরও দু'টি নোটিস গিয়েছে। মোট তিনটি নোটিস গিয়েছে সেখানে। পাশে আরও দু'জায়গায় নোটিস গিয়েছে। অর্থাৎ একটি গলিতে পাঁচটি নোটিস দিয়েছে পুরসভা।
রাজ্যের পালাবদলের পরই অভিষেকের সম্পত্তি স্ক্যানারে উঠে এসেছে। একদিন আগে সেই নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, "পুর কমিশনারের কাছে চার জনের নাম বলেছিলাম। একটা বেলেঘাটার রাজু নস্কর, ১৮টি সম্পত্তি, কসবার সোনা পাপ্পু, ২৪টি সম্পত্তি, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়- লিপস অ্যান্ড বাউন্সের ১৪টি, নিজের নামে ৪, বাবার নামে আরও ছয়, ২৪টি সম্পত্তি। জাভেদ খানের ছেলে, ৯০টি সম্পত্তি। এরা লুঠ করেছে। শান্তনু সিনহা, সুজিত বসু যেমন ভিতরে রয়েছে, আগামীতে সব দুর্নীতিবাজকে জেলে ঢোকানোর কাজ আইনি উপায়ে করবে বিজেপি।"
এ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তাঁর কথায়, "এমন হাজার হাজার বাড়ি হয়েছে টাকা নিয়ে। সমস্ত ওয়ার্ডে, অন্য শহরেও আছে। পুরসভা দেখবে, যেটা বেআইনি, নোটিস দেবে। আইনি বৈধতা প্রমাণ করতে হবে।" সেই মতোই ১৭টি ঠিকানায় নৌটিস পৌঁছল কলকাতা পুরসভার।
