কলকাতা : বিদেশ থেকে সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের চোখের ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, "এই ক্ষত বলে দেয়, আমি অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এই চোখ বলে দেয়, আমি এখনও শেষ হইনি।"

Continues below advertisement

এনিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, "আপনারা তো ১৫ বছর রাজত্ব করেছেন। আপনারা বলেছেন ৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে। সেই হাসপাতাল নাকি স্পেশালিটি হাসপাতাল নয়, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সেখানে বাংলাকে এতটা কেন ছোট করলেন যে, এখানে আমাদের কোনও ডাক্তারবাবুরা নেই, কোনও হাসপাতালের পরিষেবা নেই...যে আপনাকে বিদেশে যেতে হল। এটা তো আমাদের পশ্চিমবঙ্গের জন্য অপমান। আমার সেটাই প্রশ্ন ওঁর কাছে যে, আপনাকে পশ্চিমবঙ্গে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে হল কেন ? আর আপনি ফুরিয়ে গেছেন কি না সেটা তো চোখের ছবি তুলে আপনাকে দিতে হবে না। আপনি নিজেকে খেলো করলেন। এরকমভাবে খেলো করবেন না অভিষেকবাবু। আপনার দিদি হিসাবে আমি এটাই বলতে চাই। আপনার আইডিওলজি আলাদা। আপনি লড়াই করে যান। আমরা শক্তিশালী বিরোধী চাই। কিন্তু, এভাবে নিজেকে প্লিজ খেলো করবেন না।" 

চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট । ৩ সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের । সেই সময় আদালতে রাজ্যের তরফে বলা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। তাই তাঁরা আশঙ্কা করছেন, একবার বিদেশ চলে গেলে তিনি আর দেশে নাও ফিরতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে, আগে দেশেই তাঁর এমআরআই, হেলথ চেকআপ করা হোক ।  যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি  দিন। অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল এর আগে  পনেরো বার চিকিৎসা করিয়েছেন, ফিরেও এসেছেন। কলকাতায় তাঁর স্ত্রী, সন্তান আছে,  তিনি একজন সাংসদ,তিনি একটি  দলের জেনারেল সেক্রেটারি,  তিনি পালিয়ে যাবেন, এ ধরনের আশঙ্কা কেন করছে পুলিশ ? দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর  সুপ্রিম কোর্ট  তিন সপ্তাহের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেন।  

Continues below advertisement

তবে বিদেশে যাওয়ার আগে দু দিন আগে তাঁকে পুলিশের কাছে জানিয়ে যেতে হবে, তিনি কখন যাবেন, কখন ফিরবেন, ফ্লাইট ডিটেইলস, কোন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হবে ইত্যাদি। এছাড়াও বিদেশে তিনি কোন ঠিকানায় থাকবেন জানাতে হবে পুলিশকে। এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।