বারুইপুর : SIR-শুনানি পর্বের মধ্যেই, গত পরশু অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় অভিযোগ করেছেন, আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। যা নিয়ে ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই ইস্যুতে এদিন বারুইপুরের সভা থেকে ফের নির্বাচন কমিশনকে কার্যত তুলোধনা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বললেন, "খালি বাংলাদেশ,রোহিঙ্গা। আমরা গত পরশুদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলাম। আমি জ্ঞানেশ কুমারকে বলেছি, কত বাংলাদেশি বাংলা থেকে বাদ দিয়েছে, আপনি তালিকা প্রকাশ করুন। করতে পারবেন ? তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি। উল্টে, আমার দিতে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন...যারা সাংসদরা ছিলেন। আরে, আপনি মনোনীত। আমরা নির্বাচিত। আমাদের মানুষ ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে। আপনাকে আপনার প্রভুরা চিঠিতে সই করে নোটিফিকেশন ইস্যু করে পাঠিয়েছেন। দুটোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আপনি কার উপর আঙুল তুলে কথা বলছেন ? ওরা ভেবেছে তৃণমূলের লোকেরা আসবে, একটু জোরজবরদস্তি-চোখ দেখিয়ে কথা বললেই এরা ব্যাকফুটে চলে যাবে। বাঙালি কী বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। তোমার রাজনৈতিক বাবাকে গিয়ে বলবে। বাংলার মানুষ মরবে, আর তোমার কাছে আমি গোলাপ ফুল নিয়ে যাব ? তৈরি থাকো, আজ অভিষেক ব্যানার্জি গেছে; পরে মমতা ব্যানার্জি যাবে। তখন কে বাঁচাবে ? পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। বাংলায় বাংলাদেশি থাকে ? তাহলে কাশ্মীরে পহেলগাঁওয়ে কী করে ২৬ জন পর্যটক মারা যাচ্ছেন ? দিনের আলোয় জঙ্গিরা গুলি করে একেবারে ঝাঁঝরা করে মেরে দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুমাচ্ছেন ? কেন্দ্রীয় সরকার ঘুমাচ্ছে ?"
পূর্ব নির্ধারিত সূচি মতোই, বছরের শেষ দিন, দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল তৃণমূলের ১০ সদস্য়র প্রতিনিধি দল। কিন্তু, আড়াই ঘণ্টার বৈঠক-শেষে বেরিয়ে, মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
তিনি বলেন, "ওঁদের মনে হচ্ছে গলা তুলে কথা বললেই, একটু জোরে বললেই সবাই দমে যাবে। আমরা যখন কথা বলা শুরু করি, প্রথমবার তো যখন কেউ বলতে যাচ্ছে, ওরা আটকানোর চেষ্টা করছে। মেজাজ হারাতে শুরু করে। আমার দিকে আঙুল ওঠায়। আমরা যে ক'জন এখানে বসে আছি, মানুষের ভোটে জিতে এসেছি। আমরা মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য়। আপনাকে আপনার প্রভুর কাছে জবাব দিতে হয়। আমাদেরকে রাজ্য়ের মানুষকে জবাব দিতে হবে। আপনি আঙুল নীচে করে কথা বলবেন। ওঁদের মনে হয়েছে, ওঁরা যা বলবেন, আমরা শুনে নেব।" কিছুদিন আগেই, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ, সেবার প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। বুধবার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে, সেই একই অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
