জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। গতকাল মেদিনীপুর আদালতে, সুমিত রায়কে হেফাজতে চেয়ে করা আবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে CID. এমনকী এই অপরাধের পিছনে একটা বৃহত্তর চক্র বা র‍্যাকেট রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুমিত রায়।

Continues below advertisement

র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সহযোগীদেরও শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালতে পেশ করা নথিতে এই কথা উল্লেখ করেছেন তদন্তকারীরা। অপরাধে যুক্ত টাকা বা লেনদেন বা মানি ট্রেল উদ্ধারে তিনি তদন্তকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। আদালতে পেশ করা নথিতে CID-র তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, ইতিমধ্যেই, BNSS-এর ১৮০ নম্বর ধারা সুমিতের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।                        

ভবানীভবন থেকে SSKM-এ এনে স্বাস্থ্য়পরীক্ষার পরই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মেদিনীপুরে। তবে, আদালতে জামিনের আবেদনই জানাননি সুমিত রায়ের আইনজীবী।  শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় ধৃত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে  ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় মেদিনীপুর আদালত।  

Continues below advertisement

গত ৫ জুন, শালবনি থানায় অভিযোগ জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা শেখ ইমরান নামে এক ব্য়ক্তি।  অভিযোগপত্রে তিনি লেখেন, ২০২১ সালে, জমি বিক্রির নাম করে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেন তৃণমূলের তৎকালীন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও এগ্রিমেন্ট বা চুক্তিপত্র করা হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, জমিগুলো রায়ত নয়, সম্পূর্ণ সরকারি জমি। জাল দলিল বানিয়ে, জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে, তার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই মামলায় মাস তিনেক আগে গ্রেফতার করা হয় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি সুজয় হাজরাকে! পুলিশ সূত্রে দাবি, সুজয় হাজরাকে জেরা করে উঠে আসে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। এরপর সুমিত রায়কে একাধিকবার ডেকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। আবশেষে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যখন বিদেশে, তখন গ্রেফতার হলেন আপ্ত সহায়ত সুমিত রায়। এখন সুমিত রায় কী কী জানিয়েছেন সিআইডি-কে ? তদন্তে উঠে এসেছে কি আরও কোনও বড় নাম ? বিরাট এই র‍্যাকেটে কারা কারা জড়িয়ে? সেটাই এখন দেখার।