কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এই ঘটনায় কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেছেন, 'শুভেন্দুবাবুকে দল থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ও (অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়)। বারবার অভিষেকের ব্রেনওয়াশ করা, আদার্স করা... সব করেছে ও (সুমিত রায়)। কাকে কী করতে হবে, এভরিথিং। আমরা ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সকলের কাছেই অ্যাপয়নমেন্ট চাইলে আমরা পেতাম। আর ওখানে (অভিষেকের কাছে) অ্যাপয়নমেন্ট চাইলে পেতাম না। ফলে আমরা যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। অভিষেককে পরিচালনা করত সুমিত রায়। আরও অনেক কেলেঙ্কারি বেরোবে। শুধু জমি নয়, অনেক কেলেঙ্কারি বেরোবে। অ্যালকোহলে বেরোবে, ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট বেরোবে, অনেক কিছুই বেরোবে। অনেকেই জানেন দলকে শেষ করার মূলে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অভিষেককে পুরোপুরি পরিচালনা করত সুমিত রায়।'
অভিষেকের বাড়ি থেকে গ্রেফতার PA সুমিত, মদন মিত্র বলছেন, 'এর মধ্যে সেটিং... ২ প্লাস ২ - ৪...'
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ এবং তৃণমূলের ভরাডুবির পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও সরব হয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। সেই সময় তিনি বলেছেন, 'দলের বিপর্যয় যদি বলা যায়, তাহলে একজনই ব্যক্তি আছে, দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিল। সেটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদমই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ দলটাকে ও যেভাবে নিয়ে গিয়েছিল, কর্পোরেট হাউসের মতো, এখানে বাংলাতে এভাবে কর্পোরেট হাউস চলে না। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও উপায় নেই। মুখ্যমন্ত্রী ধৃতরাষ্ট্রের মতো... আটকে রেখে দেওয়া হয়েছে। শুনেছে মমতাদি অনেক। আমি নিজেও হোয়াটসঅ্যাপ করেছি অনেক সময়। যা খুশি তাই করেছেন। দল করার ছেলে হোক, দল করার ছেলে না হোক... নিজের স্বার্থ ফুলফিল হলেই করেছে। মালদায় আমি নিজে দেখেছি কোনওদিন ঝান্ডা ধরল না, কিছু করল না, হঠাৎ করে সে এল, নমিনেশন পেয়ে গেল, এমএলএ দাঁড়িয়ে গেল। বিভিন্ন সুযোগ বেনিফিট নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের দলের পক্ষে খুব ক্ষতি করেছে। আমি নিজেও অনেকবার হোয়াটসঅ্যাপ করেছি। বলেছে, ভাল করে কাজ করো। আমি আছি, দেখছি।'
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বোর্ড অফ কাউন্সিলর্সের সভায় নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করেন তিনি। তবে পদ ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বরং উস্কে দিয়েছেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেছেন, 'বৃষ্টি যেমন পড়বে, তেমন ছাতা ধরব। ছাতার আয়তনটা বড় রাখতে হবে। রঙের বড় না। আমার সঙ্গে অন্তত ৪-৫জন ওই ছাতার নীচে আশ্রয় নিতে পারবে।'
