সন্দীপ সরকার, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া স্বাস্থ্য শিবির 'সেবাশ্রয়' ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার সেই অভিযোগ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। তাঁর বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Continues below advertisement

সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস 'সেবাশ্রয়' কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে, একসময় এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন চিকিৎসকও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কী বললেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী?

সেবাশ্রয় নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, "লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে সরকার আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নেবে।

Continues below advertisement

চিকিৎসকদের অভিযোগ কী?

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার যুগ্ম সম্পাদক ডা. রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের ছাত্রদের সাধারণ মানুষের কাছে নামী চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।

তিনি আরও দাবি করেন—

  • রোগীদের দেওয়া ওষুধ নামী সংস্থার ছিল না।
  • দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্রদের শিবিরে যেতে বাধ্য করা হতো।
  • বদলির আশঙ্কা ও প্রশাসনিক চাপের কারণে অনেকেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও অংশ নিতেন।

অন্যদিকে, IMA-র সদস্য ডা. প্রশান্ত ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, সেবাশ্রয়ে নিয়ে আসা হত  আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের। যাঁরা মডার্ন মেডিসিন প্র্যাকটিস করে ওখানে তাঁদের খুব একটা ভূমিকা ছিল না। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ওষুধের উৎস ও গোটা ব্যবস্থার তদন্ত হওয়া উচিত। এছাড়া IMA-র সদস্য ডা. অশোক নন্দী অভিযোগ করেন, কিছু মেডিক্যাল রিপোর্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে তাঁদের সন্দেহ।

রাজনৈতিক তরজা

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় 'সেবাশ্রয়' শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিকে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মডেল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে বর্তমানে সেই কর্মসূচিকেই ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, সরকার জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।