নয়াদিল্লি: দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আজ বিকেলে দেখা করবেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের বিদ্রোহী ব্লক নিয়ে আলোচনা।
আরও পড়ুন, শোভনদেব নন, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, হাইকোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল
গত রবিবার বিদ্রোহী ব্লকের তৃণমূল সাংসদরা দেখা করেন স্পিকারের সঙ্গে। চিঠি দিয়ে সুদীপ-কাকলি-শতাব্দীরা NCPI-তে যুক্ত হওয়ার কথা জানান। তার আগেই 'কালীঘাট-তৃণমূলের' পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার ওম বিড়লাকে। অভিষেকের চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ। চিঠিতে অভিষেক আবেদন করেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে যেন সিদ্ধান্ত নেন স্পিকার। তখনই বৈঠকের জন্য চিঠি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেছিলেন স্পিকার।
দলীয় সাংসদদের মাধ্যমে চিঠি দিয়েছিলেন আগেই। আর শুক্রবার দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, আমি লোকসভার তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে পৃথকভাবে ২০টা ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন আজকে মুভ করেছি। যারা যারা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক চিহ্নে নির্বাচিত হয়ে, NCPI নামক একটা দল যার কথা কোনওদিন আজ পর্যন্ত কেউ শোনেনি। সেই দলে যারা নাম লিখিয়েছে, বিজেপির থেকে অর্থের বিনিময়ে, এবং নিজেদের পিঠ বাঁচানোর কারণে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন মুভ করেছি। গত রবিবার তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে NCPI বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি দেন। তার কয়েকঘণ্টা আগেই তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের চিঠি নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে যান তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ।
বৈঠকে 'বিদ্রোহী' সাংসদরা , স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের। যে চিঠি তাঁরা পৌঁছে দেন তাতে বলা হয়,তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই। তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। তৃণমূলের বক্তব্য না শুনে, কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না -স্পিকারকে চিঠি দিয়ে আর্জি জানান তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ১৮৩ সাউথ অ্য়াভিনিউয়ে নিজের বাসভবন থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও' ব্রায়েন, সৌগত রায়, কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষরা।অধ্যক্ষের সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক হয়। অভিষেক বলেন, যতক্ষণ না রাজনৈতিক দলটির দুই তৃতীয়াংশ মার্জ করার সিদ্ধান্ত নেয়, দু'টোই সংবিধানে লেখা রয়েছে। এই 10th Schedule-এই পয়েন্ট নিয়ে যে একাধিক সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে, সেটা আমরা স্পিকারের কাছে উপস্থাপিত করেছি এবং তিনি এগুলো বিস্তারিত দেখেছেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। যে আবার তিনি খুব শীঘ্রই আমাদেরকে ডাকবেন। আমরা বলেছি এদেরকে ডিসকোয়ালিফাই করতে হবে। আমরা আশাবাদী যে স্পিকার নিশ্চয়ই তাদেরকেও ডেকে আমরা যে কথাগুলো বলেছি তাদের থেকে সদুত্তর চাইবে।
