কলকাতা : পরিবর্তনের হাওয়া বয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ১৫ বছরের তৃণমূলের দূর্গকে ধূলিসাৎ করে বাংলার মসনদে এখন বিজেপি। বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে প্রথমবার সরকার গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সরকার গঠনের পর একের পর এক 'দুর্নীতির ফাইল' ওপেন করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইলগুলোর মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেআইনি সম্পত্তির ফাইল এই মুহূর্তে শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একধাক্কায় ১৭টা সম্পত্তির বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি এবং তাঁর আত্মীয়দের নামে আছে এই সব সম্পত্তি।
বিধানসভা ভোটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের সরকার। এক লহমায় চুরমার ১৫ বছরের সাম্রাজ্য়। আর এর মাঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেআইনি সম্পত্তি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। কলকাতা পুরসভার স্ক্য়ানারে রয়েছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি এবং তাঁর আত্মীয়দের নামে থাকা ১৭টা সম্পত্তি। যেখানে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পাঠানো হয়েছে নোটিস। তিলজলায় মতো এবার কি ভাঙতে পারে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সম্পত্তি? উঠছে প্রশ্ন। আরও পড়ুন - অভিষেককে ঘিরে কি ভাগ হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল ? কেন তৃণমূলের অন্দরে 'গৃহযুদ্ধ' ? জল্পনা তুঙ্গে
কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা ?
পুরসভার নোটিসে বলা হয়েছে, নোটিস দেওয়ার ৭ দিনের মধ্য়ে বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে। ১. হরিশ মুখার্জি রোড, ২. কালীঘাট রোড, ৩. প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, ৪. পণ্ডিতিয়া রোড, ৫. ওস্তাদ আমির খান সরণির একাধিক ঠিকানায় নোটিশ পাঠায় কলকাতা পুরসভা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিসগুলো গেছে।
নোটিশ দেওয়া এই সব ঠিকানাগুলোয় পৌঁছেছিল এবিপি আনন্দ। ১৮৮-র A, হরিশ মুখার্জি রোডের লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
১৮৮-র A শান্তিনিকেতন
১৮৮-র A, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।
১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে
১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।
১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি
১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।
প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে
প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর B প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।
উল্টোদিকেই রয়েছে ২৯A প্রেমেন্দ্রমিত্র সরণি, এখানে ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।
২৯-এর C প্রেমেন্দ্রমিত্র সরণি, এখানে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে আরও দুটি নোটিস ইস্যু করা হয়েছে।
ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড
১B ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
