কলকাতা: শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আজও উত্তেজনা ছড়ায়। বিধানসভায় অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব আনা হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস দেওয়ার প্রস্তাবও জমা পড়েছে বিধানসভায়। অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকিও। (Agnimitra Paul)
রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব এনেছেন। স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাবও জমা পড়েছে। আজ বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে নিন্দাপ্রস্তাবটি পড়ে শোনান শোভনদেব। শোভনদেব যখন নিন্দাপ্রস্তাব পাঠ করছেন, সেই সময়ই বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের দাবি, গতকালই বিধানসভার রেকর্ড থেকে অগ্নিমিত্রার মন্তব্য বাদ দেওয়া হয়েছে। তাও কেন নিন্দাপ্রস্তাব, স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস। বিজেপি-র দাবি, আসলে চাপ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য। (West Bengal Assembly)
যদিও শোভনদেব জানিয়েছেন, "সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা বিলে কিছু বেশি টাকা ধরা ছিল। সেই নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে নিম্নমানের শব্দ ব্যবহার করেছেন উনি। মুসলিমদের টাকা দিলে ওখানে ক্রিমিনাল, সমাজবিরোধী তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিধানসভাতেও অনেক মুসলিম বিধায়ক আছেন। সেখানে এই ধরনের অশালীন কথা বলে তাঁদের তো বটেই, বিধানসভাকে অসম্মান করেছেন উনি।" শোভনদেবের মতে, আজ বিধানসভার শেষ দিন বটে। কিন্তু অগ্নিমিত্রা যে মন্তব্য করেছেন, তাতে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস অবশ্যই আনা উচিত। কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন অগ্নিমিত্রা।
ISF বিধাক নৌশাদও অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অগ্নিমিত্রার মন্তব্য সাম্প্রদায়িক এবং বিধানসভার বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যায় কি না, তাও দেখবেন তিনি। এদিন নৌশাদ বলেন, "বিজেপি এবং তৃণমূল মিলে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ভুল পথে চালিত করছে সকলকে। যে ব্লকে ২০ শাতংশ মুসলিম রয়েছে, সেগুলিকে সংখ্যালঘু ব্লক বলে চিহ্নিত করা হয়। মাদ্রাসা এবং সংখ্য়ালঘু বিভাগের টাকা স্কুল শিক্ষাতেও খরচ করা হয়। শুধুমাত্র মাদ্রাসায় খরচ হয় না। এই কথাগুলি বলা ওঁরা বলেন না। মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই বলেন না, অন্যায়, অনৈতিক কথাগুলি বলেন। রাজ্য প্রশাসন ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা-ই দেখার।"
অন্য দিকে বিজেপি-র বক্তব্য, "আজ আলোচনার মানসিকতা নিয়ে এসেছিলাম আমরা। কোনও অ্যাডভার্স শব্দও ছিল না। ফিরহাদ হাকিমের পিছন থেকে হয়ত জন সমর্থন সরে যাচ্ছে হুমায়ুন কবীর এবং নৌশাদ সিদ্দিকির সৌজন্য। তাই ঘৃণ্য খেলায় নেমেছেন।" আজ বিধানসভায় অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি বিজেপি-র।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিন্দু-মুসলিম, মন্দির-মসজিদ নিয়ে এমনিতেই সংঘাত চরমে। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভাতেও সেই আঁচ পৌঁছে যায়। বক্তৃতা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তাঁর বক্তব্য ছিল, "আপনাদের সরকার সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য আপনারা তাদের ক্রিমিনাল বানাচ্ছেন।"
সেখানেই থামেননি অগ্নিমিত্রা। বরং সুর চড়িয়ে বলেন, "আপনাদের সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার বাজেট বাড়িয়েছে। মাদ্রাসা পড়ার পর কেন কেউ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না? কেন ক্রিমিনাল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে কেউ কেউ?" সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে রাজ্য অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে বলেও অভিযোগ তোলেন অগ্নিমিত্রা।
সেই নিয়ে গতকাল থেকেই উত্তপ্ত বিধানসভা। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ জানান। অগ্নিমিত্রাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তোলেন। ফিরহাদ বলেন, "স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা ক্রিমিনাল নই। এপিজে আব্দুল কালাম, কাজি নজরুল ইসলামরা কি ক্রিমিনাল? একটা জাতিকে ক্রিমিনাল আখ্য়া দেওয়া এই সাহস উনি পেলেন কোথা থেকে? ভারতে আমাদের সমান অধিকার। অগ্নিমিত্রা পালের যা অধিকার, আমার বা যে কোনও সংখ্য়ালঘুর এক অধিকার।" তার পর শনিবারও একই ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা।