সৌমিত্র রায়, কলকাতা :  বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানে শুধু ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা নয়। সেই সঙ্গে খাবারের স্টলে ঢুঁ মেরে এগরোল, চিকেন চাউমিনের মতো পছন্দের খাবার চেখে দেখা। আর ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী, মানে বাগেশ্বর বাবা বলছেন, "দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার তৈরি করা হয়।" এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যে বাঙালি যুগ যুগ ধরে নিয়ম-আচার মেনে দুর্গাপুজো করছে, তাকে খাবার নিয়ে পাঠ দেওয়ার মধ্য়প্রদেশের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী কে? 

Continues below advertisement

বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপির অন্দরেই ভিন্নমত।  শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, "নবমীর দিন বাঙালি সাধারণত পাঁঠার মাংস খায়। অষ্টমীর দিন লুচি খায়। তো সেটাই খাবে।" কার্যত একই সুরে অগ্নিমিত্রা পাল বুঝিয়ে দিলেন, বাঙালির দুর্গাপুজো আর নবরাত্রি এই জিনিস নয়। তাই পুজোয় বাঙালি কী করবে, কী খাবে, কী পরবে, কখন বাড়ি ফিরবে , সেটা অন্য কেউ বলে দেবে না। 

তিনি বলেন, ' আমার মনে হয়, আমার মাননীয় রাজ্যসভাপতি বলে দিয়েছেন ... যে কেউ বাইরে থেকে এসে তো বুঝবে না যে এখানে আমাদের বাঙালিদের কী বিষয়। অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই  দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার, এখানে তো সেই কালচারটা নয়। আমরা সারা বছর টাকা পয়সা জমাই দিয়ে আমরা পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাবো, ইলিশ মাছ খাবো। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। উনি ওনার মতো করে বলেছেন,  যেটা উনি জানেন। উনি জানেন না যে এখানে কালচারটা ওইটা নয়। সুতরাং আমার   রাজ্য সভাপতি বলে দিয়েছেন আর আমিও বারবার বলেছি, আমরা কী খাবো, কী পোশাক করব, কখন বেরব, কখন বাড়ি ঢুকব এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন... রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।  মাননীয় রাজ্য সভাপতি খুব ক্লিয়ারলি, এর থেকে ক্লিয়ারলি আর বলা যায় না... যা বলার বলে দিয়েছেন। '

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত বাগেশ্বর বাবা নামে খ্যাত ওই ব্যক্তির বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলে দেন, ' নবমীর দিন বাঙালি সাধারণত পাঁঠার মাংস খায়। অষ্টমীর দিন লুচি খায়। তো সেটাই খাবে।আপনি কি আপনার বাড়িতে খাবেন সেটা কোনও সাধু নির্ধারিত করে দেবে?...আরে বিবেকানন্দ বলে গেছেন। তার ওপরে কে আছেন? যে মা কালী এখানে পাঁঠা খাবে। আমি তো বলছি, আমরা যে রকম আছি, আমাদেরকে সেরকম থাকতে দিন। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। '