কোচবিহার: ভোটের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দামামা বেজেই গিয়েছে। তৃণমূল সরকার তাঁদের প্রচারও শুরু করে দিয়েছে। এদিন কোচবিহারে গিয়ে সেখান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে আগামীর জন্য আশ্বাস দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কোচবিহারের সভা থেকে জানিয়ে দিলেন যে, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প কোনওদিনও বন্ধ করা হবে না।
এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''পথশ্রী প্রকল্পে কোচবিহার জেলায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ হচ্ছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করতে চেয়েছিল। যতদিন তৃণমূল সরকারে আছে, কেউ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করতে পারবে না। জনগণের আদালতে মোদি বাবু হতে হবে বন্দি। চতুর্থবার মা-মাটি, মানুষের সরকার তৈরি হবে।''
বিজেপি নেতা কর্মীদের আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, ''যে ভাষায় বিজেপির বহিরাগতরা বোঝে, সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে। বিজেপির বহিরাগতদের জবাব দিতে তৈরি রাজ্যের মানুষ। এখানে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রীও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কোনও কথা রাখে না বিজেপি। আজকের সভা বিজেপির বিসর্জনের শুভ সূচনা। জিতেও বিজেপি শুধু নোটিস পাঠিয়ে অপমান নয়, শোষণও করেছে।''
একই সঙ্গে মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, "ওঁদের মনে হচ্ছে গলা তুলে কথা বললেই, একটু জোরে বললেই সবাই দমে যাবে। আমরা যখন কথা বলা শুরু করি, প্রথমবার তো যখন কেউ বলতে যাচ্ছে, ওঁরা আটকানোর চেষ্টা করছেন। মেজাজ হারাতে শুরু করেন। আমার দিকে আঙুল ওঠান। আমরা যে ক'জন এখানে বসে আছি, মানুষের ভোটে জিতে এসেছি। আমরা মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য়। আপনাকে আপনার প্রভুর কাছে জবাব দিতে হয়। আমাদেরকে রাজ্য়ের মানুষকে জবাব দিতে হবে। আপনি আঙুল নীচে করে কথা বলবেন। ওঁদের মনে হয়েছে, ওঁরা যা বলবেন, আমরা শুনে নেব।"
SIR ইস্যুতে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়ে ডায়মণ্ডহারবারের সাংসদ আরও বলেন, ''১০ জন বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মৃত ঘোষণা করেছে কমিশন। মানুষ যাতে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, তাই, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে যত জেতাবেন, আপনার অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন।''