কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ৩ এপ্রিল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের তলবের জন্য নোটিশ জারি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে তলব করেছিল ইডি। এই দুর্নীতি মামলায় গত সোমবার, অর্থাৎ ৬ এপ্রিল দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে তলব করে। তার ঠিক ২ দিন পর, অর্থাৎ গত বুধবার খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করেছিল ইডি। কিন্তু দুজনেই গরহাজির ছিলেন। আর তলবে গরহাজির থাকার পর বৃহস্পতিবার ED-র বিরুদ্ধে 'হেনস্থার' অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠালেন সুজিত বসু।

Continues below advertisement

সুজিত বসু ED-কে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, 'প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচারে ব্যস্ত, বারবার নোটিস দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে।' ভোটের সময় এমন হেনস্থার অভিযোগ তুলে ED-কে চিঠি পাঠালেন দমকলমন্ত্রী। ED-র কাছে তিনি আবেদন জানান, ভোট শেষ হওয়ার পর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে যেন তাঁকে ডাকা হয়।

তলবের চিঠি পাওয়ার পর ৬ তারিখ উপস্থিত না হয়ে সুজিত বসু কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, 'একটা কাগজ পাঠিয়েছে, সেখানে সুজিত বসুর নাম কোথাও লেখা নেই। ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যেটা ED, CBI, ইনকাম ট্যাক্স, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগাচ্ছে। কত হিংসাপরায়ণ হলে আজকের দিনে নোটিশ দিয়েছে। ২০২৩ সালের মামলা, আজকের দিনে নোটিশ দিচ্ছে।'  

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, এর আগে এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ED। এমনকি তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পরবর্তীতে, সুজিত বসুর স্ত্রী-মেয়ে-ছেলে-জামাইকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার সেই একই মামলায় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজিত বসুকেও ৩ এপ্রিল ডেকে পাঠিয়েছিল ED। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারও হাজিরা দিলেন না। উপস্থিত না থাকার কারণ লিখে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠান ED-কে।  

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পাশাপাশি খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও এর আগে তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ৩ এপ্রিল সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকেও জমি দখলের মামলায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। সুতরাং, বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের এমন সক্রিয়তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। 

প্রসঙ্গত, SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সময় অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু ওএমআর শিট। আর এখান থেকেই পুরসভার নিয়োগের দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ইডিও। আর এখান থেকেই ফাঁস হয়ে যায় সবকিছু।