কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: রান্নার গ্য়াস সঙ্কটের জের। বাধ্য় হয়ে কসবার কমিউনিটি কিচেনে তৈরি করা হল মাটির উনুন। সেখানেই তৈরি করা হচ্ছে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল। গ্য়াস সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বার বার দাবি করছে কেন্দ্র। কিন্তু একাধিক বার চেষ্টা করেও গ্যাস বুক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি কিচেনের কর্ণধার। তাই খাস কলকাতার বুকে কয়লার উনুনেই চলছে রান্নাবান্না। (Kasba Earth Oven Cooking)

Continues below advertisement

কয়লার উনুন জ্বেলে চলছে রান্না-বান্না। দেখে মনে হতে পারে কোনও অজ পাড়া গাঁ। কিন্তু আদতে তা নয়। এই ছবি খাস কলকাতার, কসবার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে গ্য়াস সিলিন্ডারের জন্য় যে হাহাকারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতেই বিপদে পড়ে এমন ব্য়বস্থা করতে হয়েছে কসবার এই কমিউনিটি কিচেনে। (LPG Crisis) আপাতত নারকেল পাতা, কাঠ, কয়লা ব্য়বহার করে সেখানে তৈরি হচ্ছে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল। ইঁট ও মাটি দিয়ে তৈরি উনুনে ফুটতে দেখা গেল খিচুড়ি। উনুনে আগুন ধরাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তার উপর ভারী ডেকচি তুলে বসানো, নামানোর পর্বও ছিল। আগুনের কাছে দাঁড়িয়েই ডেকচিতে হাতা নাড়তে দেখা যায় এক মহিলাকে। পাশাপাশি দু'টি উনুনে তখন খিচুড়ি ফুটছে। অন্য উনুনটিতে আগুন যাতে জ্বলতে থাকে, সেই মতো কাঠ, পাতা ঠেলে দিতে থাকেন একজন। কসবার এই কমিউনিটি কিচেনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ পড়ুয়ার রান্না হয়। এখানকার কর্ণধার, রতন চক্রবর্তীর দাবি, রান্নার জন্য় মাসে ২৫টি বাণিজ্য়িক গ্য়াস লাগে তাঁদের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে উনুনে রান্না করতে হচ্ছে। এবিপি আনন্দকে তিনি বলেন, "LPG সঙ্কটের জন্য এটা করছি। ইরান আর আমেরিকার যুদ্ধে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ২৯-৩০ তারিখ থেকে স্টক শেষ। অত্যন্ত পরিশ্রম করে চার-পাঁচটা কাঠের উনুন তৈরি করেছি। বাচ্চাদের খাবার বন্ধ করিনি।" 

জ্বালানির এই সঙ্কটেরে জেরে বাচ্চাদের খাবারের মেনুতে কি কোনও পরিবর্তন ঘটেছে? রতন জানান, আগে সপ্তাহে ছয় দিন, ছয় রকম ছিল। এখন সপ্তাহে দু'দিন ডিম দিতে হচ্ছে তাঁদের। ধোঁয়ার মধ্যে, চোখজ্বালা, চোখে জল নিয়েই চলছে রান্না। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার দাবি করা হচ্ছে, গ্য়াস সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। তবে এই কমিউনিটি কিচেনের কর্ণধারের দাবি, একাধিকবার চেষ্টা করলেও গ্য়াস বুকিং করতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, "চেষ্টা করেছি। বুকিং নিচ্ছে না। বাণিজ্যিক LPG-র ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আমার তো সবই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার। বাধ্য হয়ে কাঠ-কয়লা ব্যবহার করছি।" জ্বালানি সঙ্কটে শহরের বুকে উনুনে রান্নার সংস্কৃতি ফিরতে চলল কি না, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

Continues below advertisement