কলকাতা: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে কারও ঝলসানো দেহাংশ পাওয়া গেছে। কারও সেটুকুও পাওয়া যায়নি। পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে গোডাউনে ছড়িয়ে থাকা পোড়া হাড়গোড়ের ছবি। এবার সেই দেহাংশের সূত্র ধরেই নিহতদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।   

Continues below advertisement

এরইমধ্যে 'ওয়াও মোমো'-র তরফে বিবৃতি দিয়ে অগ্নিকাণ্ডের পাল্টা দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের দিকেই। অভিযোগ, রাতে সেখানে বিনা অনুমতিতে রান্না করা হচ্ছিল। তা থেকেই আগুন লাগে, যা 'ওয়াও মোমো'-র গুদামকে গ্রাস করে ফেলে।

সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘আনন্দপুরে Wow মোমোর ওয়্যাহাউসে আগুন লেগে যায়। যে ভাড়াবাড়িতে ওয়্যাহাউসটি ছিল, সেই বাড়ির মালিকের একটি ডেকোরেটরের ব্যবসাও রয়েছে। পাশেই যার গুদাম। সেই গুদাম থেকেই আগুন ছড়ায়। সেসময় আমাদের ওয়্যারহাউসে একজন নিরাপত্তাকর্মী এবং দু’জন সাধারণ কর্মী কাজ করছিলেন। ৩ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। আমরা মৃতদের পরিবারের পাশে আছি। আমরা ওই পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আগামী দিনেও পরিবারগুলির পাশে থাকব।’

Continues below advertisement

এই ঘটনায় সংস্থার ৩ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে 'ওয়াও মোমো'। সঙ্গে দেওয়া হবে আজীবন মাসিক বেতন। কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমাদের হৃদয়, আমাদের মন এবং আমাদের প্রার্থনা নিহতদের পরিবারের জন্য নিবেদিত এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে পরিবারগুলোর আজীবন পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়া হবে। যদিও আমরা স্বীকার করি যে এই ধরনের ব্যক্তিগত ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ হতে পারে না, তবুও আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে তাদের জীবনযাত্রার যেন ভালোভাবে খেয়াল রাখা হয়। আমরা আমাদের কর্মীদের তিনটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদের আশ্বাস দিয়েছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, তারা আইনগত এবং সরকারিভাবে যে সমস্ত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী' । 

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। গোডাউন কর্মীর আত্মীয়ের দাবি, ১০ লাখ টাকা প্রাণের দাম? একটা মানুষের কি ১০ লাখ টাকা প্রাণের দাম? এই অগ্নিকাণ্ডে বাবাকে হারানো মেয়ের দাবি, টাকাটাই কি বড়? আমার বাবাকে এনে দিতে পারবে? টাকা কী হবে? মানুষ চলে গেছে... টাকা নিয়ে কী করব... আমার বাবাকে এনে দিক।