কলকাতা : বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়ার পর বোধোদয় ? দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে বারবার অসম্মানজনক মন্তব্য় করার পর অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য় । আর তারপরই একটি ক্ষমাপ্রার্থনা ভিডিও করেছেন তিনি। তাতে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান তিনি। বুধবার দিনভর নিজের বক্তব্যে অনড় থাকলেও তীব্র চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়ে সুর নরম করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। গভীর রাতে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

Continues below advertisement

ঠিক কী বলেছেন অনন্ত ? সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে একাধিক অবমাননাকর বক্তব্য রাখার পর এবার ক্ষমা চেয়ে বিজেপির রাজ্য়সভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ বললেন, 'আমার অনেক কিছু কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনেক কিছু কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'                দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে বারবার অসম্মানজনক মন্তব্য় করেছেন বিজেপির রাজ্য়সভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। যে মন্তব্য় ঘিরে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য় সরকার। মুখ্য়মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও, নিজের অবস্থান থেকে সরেননি অনন্ত মহারাজ।  অবশেষে রাতে তিনি ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তা দেন।  

এই পরিস্থিতিতে এবার অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ তারিখ করা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা গোপাল দে-র অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দায়ের হয়েছে। Bharatiya Nyaya Sanhita বা BNS-এর ১৯৬ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, ২৯৯ ধারায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং ৩৫৩ গুজব ছড়িয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টার অভিযোগে রুজু হয়েছে মামলা। 

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক। সমাজমাধ্যমে নেতাজি সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ও পোস্ট করার অভিযোগে ১১ জনের নামে FIR করা হয়েছে কোতোয়ালি থানায়। এই নিয়ে দায়ের হল মোট ৯টি মামলা। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অনন্ত মহারাজের ৫ অনুগামীকে।

কিন্তু নেতাজিকে এরকম অসম্মানের পরেও কঠোর ব্য়বস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না অনন্ত মহারাজকে? প্রশ্ন রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষের।