কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তবে যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ, ওই আবেদনকারীরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবেদনপত্র খতিয়ে দেখার পর ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, যাঁরা যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। গত ১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্যও পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। সেই সমীক্ষায় একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁর।
অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল, ১.৩০ কোটির বেশি মহিলা পাচ্ছেন সুবিধা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম এমনভাবে তালিকাভুক্ত ছিল, যাঁদের মধ্যে কেউ ভারতীয় নন, কারও নাম ভোটার তালিকায় নেই, আবার কোথাও মৃত ব্যক্তির নামও ছিল। এমনও দেখা গিয়েছে, একাধিক ব্যক্তির নাম তিনটি আলাদা ভোটার তালিকায় রয়েছে এবং একই সঙ্গে তিনটি পৃথক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান জমা পড়ছিল। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ শুধুমাত্র বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ। তাই নিয়ম মেনেই এই ধরনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে ভারতে এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদন করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপাতত কোনও ভাতা বন্ধ করা হবে না। তাঁদের CAA-র আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে। একইসঙ্গে, যাঁদের মামলা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভাতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, 'কারা যেন বলছিলেন না, যে আগের সরকারের যে বরাদ্দ ছিল, এই সরকার বরাদ্দ মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে অর্ধেক উপভোক্তা করে দিয়েছে। আমরা ১টা উপভোক্তাকেও বাদ দেব না। যারা আমরা উপভোক্তা বলি না, আমরা বলি, এটা আপনার অধিকার। '
