Annapurna Yojana: পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়স হলেই যে প্রত্যেকে এই সুবিধা পাবেন, তা নয়। বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। সেই শর্তের আওতায় পড়লে আবেদনকারী মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। সরকারি বাজেটেও ২৫–৬০ বছর বয়সী মহিলাদের এই সরাসরি আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Continues below advertisement

সরকারি চাকরি করলে অন্নপূর্ণার টাকা মিলবে না

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীনে স্থায়ী সরকারি চাকরি করলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না।

Continues below advertisement

এছাড়াও সরকারি বিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি Undertaking, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সরকার পরিচালিত/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ সরকারি স্কুলের স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, সরকারি কর্মী বা নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থার স্থায়ী কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে কী হবে?

অন্নপূর্ণা যোজনার বয়সসীমা ২৫ থেকে ৬০ বছর। ফলে ৬০ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা এই বয়সসীমার মধ্যেই পড়ছেন না।

তাই তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার প্রশ্নও নেই।

আয়কর দিলে মিলবে না ৩,০০০ টাকা

যে পরিবার আয়কর প্রদান করে, সেই পরিবারের মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

অর্থাৎ পরিবারের আয় নির্ধারিত আয়কর সীমার মধ্যে না থাকলে এবং আয়কর দিতে হলে সংশ্লিষ্ট মহিলা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন না।

মাসে ১০ হাজারের বেশি নিজের আয়?

এখানেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

যে মহিলা নিজে মাসে ১০,০০০-এর বেশি আয় করেন, তাঁকে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হবে না।

তবে পরিবারের পুরুষ সদস্য যদি Casual বা Contractual কর্মী হন, সেক্ষেত্রে শুধু সেই কারণে তাঁর পরিবারের স্ত্রী বা অন্য যোগ্য মহিলা বাদ পড়বেন না। কারণ অন্নপূর্ণা যোজনার মূল লক্ষ্য মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বশক্তিকরণ।

অন্য ভাতা পেলেই কি অন্নপূর্ণা বন্ধ?

এখানে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনও মহিলা যদি অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা-এর কম ভাতা পান, তাহলে তাঁকে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা-এর সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

উদাহরণ হিসেবে বিধবা পেনশনের কথা ধরা যায়। যদি কোনও মহিলা ৩,০০০-এর কম ভাতা পান, তাহলে তাঁকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অন্নপূর্ণার ₹৩,০০০-এর সুবিধার আওতায় আনা হবে।

তবে দিব্যাঙ্গদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়

এখানে রয়েছে বিশেষ শিথিলতা।

দিব্যাঙ্গ ভাতা পাওয়া মহিলারা তাঁদের নির্ধারিত দিব্যাঙ্গ ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকাও পেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে দুটি সুবিধার মধ্যে সমন্বয় না করে দুটিই পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

PM-KISAN-এর ক্ষেত্রেও শিথিলতা

PM-KISAN Samman Nidhi-র ক্ষেত্রেও এই নিয়মে শিথিলতা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ PM-KISAN-এর সুবিধা পাওয়ার কারণে কোনও যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে সরাসরি বাদ পড়বেন না।

গ্রামের মহিলাদের জন্য বড় পরিবর্তন

আগে বাড়ির গঠনের নির্দিষ্ট মাপকাঠির কারণে অনেক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়েছিলেন।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তিন কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি থাকার বিষয়টি যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছিল বলে জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়মে গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে এই শর্তে শিথিলতা আনা হয়েছে। ফলে তিন কক্ষের বাড়ি থাকার কারণে গ্রামের কোনও মহিলা শুধুমাত্র এই কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

এর ফলে গ্রামীণ এলাকার আরও বেশি সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

জমির মালিকানাতেও বদল

জমির পরিমাণের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।

বিশেষ করে কর্পোরেশন, পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জমির মালিকানার মাপকাঠি রাখা হয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে ৫০ ডেসিমালের বেশি জমির মালিকানা থাকলে যোগ্যতার ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হবে।

গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে জমির মাপকাঠিতে শিথিলতা আনার ফলে আরও বেশি মহিলা সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

এক নজরে—কারা অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন না?

 ২৫ বছরের কম বয়সী মহিলা

 ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলা

 স্থায়ী কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকারি কর্মী

 সরকারি Undertaking বা বিধিবদ্ধ সংস্থার স্থায়ী কর্মী

 পঞ্চায়েত বা পুরসভার স্থায়ী কর্মী

 সরকার বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট স্থায়ী কর্মী

 আয়কর প্রদানকারী পরিবারের যোগ্যতার বাইরে থাকা মহিলা

 নিজের মাসিক আয় ১০,০০০-এর বেশি এমন মহিলা

তবে দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং PM-KISAN-এর ক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার বাড়ি ও জমির যোগ্যতার কিছু শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তাহলে কারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন?

নতুন নিয়মের ফলে মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী, নিম্ন আয়ের, অ-সরকারি চাকরিতে থাকা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে থাকা মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বাড়ি ও জমির মাপকাঠিতে শিথিলতার ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন।

তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাই হবে সরকারি নথি ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী। তাই আবেদন করার আগে নিজের বয়স, আয়, চাকরি, পেনশন/ভাতা, জমি ও পরিবারের অন্যান্য তথ্য ঠিকভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।