ভাস্কর মুখোপাধ্য়ায়, নানুর: নতুন বছর এলেও বীরভূমে কমেনি অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের অনুগামীদের মধ্য়ে দ্বন্দ্ব। এবার অনুব্রতর অনুগামী হওয়ায় মেরে হাত পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল নানুরে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের সভাপতি। (Anubrata Mondal)
অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী বলেই আক্রোশ থেকে তৃণমূল নেতার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গাড়ি লক্ষ্য় করে চালানো হয়েছে গুলি। আর গোটা ঘটনায় আঙুল উঠেছে কাজল শেখের অনুগামীদের দিকে। যার জেরে ফের সামনে চলে এসেছে অনুব্রত মণ্ডল বনাম কাজল শেখের গোষ্ঠীর লড়াই। (Kajal Sheikh)
নানুর ব্লকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান রিঙ্কু চৌধুরী বলেন, "আমি কেষ্টদার অনুগামী। কেষ্টদা আসার পর আমাদের উপর আক্রমণ। আমাকে মারার চক্রান্ত করছিল কাজল শেখ এবং কাজল শেখের দলবল। ২৫-৩০ জন মিলে আটকায়। শাবল দিয়ে মারে। বন্দুকের বাঁট দিয়ে মেরে হাত-পা ভেঙে দেয়। একটাই কথা, অনুব্রত মণ্ডলের দল করা যাবে না। আসা যাবে না কেরিম খানের কাছে। দু'রাউন্ড গুলি চালিয়ে আমার গাড়ি থামিয়েছিল।" যদিও, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, "ইনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা নিয়ে ঝামেলা থেকেই এতকিছু।" এ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বীরভূমে বিজেপি-র সংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। তাঁর কথায়, "এলাকা দখল নিয়ে ঝামেলা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তো রয়েইছে।" কাজল বনাম অনুব্রতর অনুগামীদের লড়াই নতুন নয়। কিন্তু গরুপাচার মামলায় অনুব্রত জেল থেকে ফেরার পর, তা নয়া মাত্রা পেয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বর মাসেও অনুব্রতর অনুগামীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। সেবারও নানুরেই অনুব্রত অনুগামীদের মারধর করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। জানা যায়, দেড় মাস ধরে গ্রাম ছাড়া ছিলেন নানুরের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। অনুব্রতর প্রত্যাবর্তনে সপরিবারের গ্রামে ফেরেন শেষ পর্যন্ত। আর তার পরই ২০-২৫ জন মোটর সাইকেলে চেপে এসে হামলা চালায় বলে জানা যায়। অভিযোগ, হামলাকারী সকলেই ছিলেন কাজল শেখের অনুগামী। বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়ে বোলপুরের SDPO-র কাছে অভিযোগও দায়ের হয়। তখনও দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা শুরু হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের একই অভিযোগ সামনে এল।