ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: দুবার সমনের পরও অন্তরালে কেষ্ট (Anubrata Viral Audio)। আর যে পুলিশ আধিকারিককে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁরই ফোন বাজেয়াপ্ত করা হল। এদিন বোলপুরের IC লিটন হালদারের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে যে হুমকি দিল, সেই অনুব্রতর ফোন এখনও অধরা। 

IC-র ফোন বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ: বোলপুরের IC-কে কদর্য কথা। মা-স্ত্রীয়ের প্রসঙ্গ তুলে নোংরা মন্তব্য। সেখানে এমন শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন অনুব্রত মণ্ডল, যা প্রচারের অযোগ্য। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে পরপর দুবার পুলিশ তলব করেছে। পুলিশের তলব এড়িয়ে শনিবার পার্টি অফিসে হাজির ছিলেন কেষ্ট। অথচ অসুস্থতার কথা বলে হাজিরা এড়িয়ে যান বীরভূমের তৃণমূলের নেতা। ইতিমধ্যেই দুটি জামিন অযোগ্য ধারা-সহ মোট ৪টি ধারায় মামলা। ঘটনার ৬ দিন পরেও হাজিরা দেননি অনুব্রত মণ্ডল। এদিকে যে IC-কে কুকথা বলা হয়েছে, সেই লিটন হালদারের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যদিও তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতির ফোন এখনও বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, আইফোনের ফেসটাইম অ্যাপে কল করেছিলেন অনুব্রত। সেই ফোন স্পিকারে রেখে অন্য ফোনে রেকর্ড করেন IC। IC-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। কীভাবে প্রকাশ্যে এল অডিও ক্লিপ? তারও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। 

পুলিশ অফিসারকে বাছা বাছা শব্দে অপমান করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। রেয়াত করেননি রীতি নিয়ম, পুলিশের উর্দির সম্মান। এতটাই কদর্য ছিল সেই ভাষা যে, প্রতি শব্দের পরই একাধিক বিপ-শব্দ ব্যবহার করতে হয়েছিল। সেই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। যে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়েছে তাতে নিজেকে অনুব্রত মণ্ডল বলে পরিচয় দিতে শোনা যায়। বোলপুরের আইসিকে হুমকি দিতে শোনা যায় কুৎসিত ভাষায়। ভাইরাল অডিও সামনে আসতে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূলও। দল তাঁকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ারও নির্দেশ দেন। দলের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, 'কোনও পুলিশ আধিকারিকের প্রতি এধরনের মন্তব্য সমর্থন করে না দল'। সেই সঙ্গে কাটছাঁট করা হয় কেষ্ট মণ্ডলের নিরাপত্তাতেও। সূত্র মারফত জানা যায়, তাঁর একটি গাড়িও পার্টি সরিয়ে নিয়েছে। এই পরিস্থিতির চাপে অবশেষে ক্ষমা চেয়ে নেন অনুব্রত। 

কিন্তু এই ঘটনার ৬ দিন কেটে গেলেও অন্তরালেই রয়েছেন কেষ্ট মণ্ডল। চিকিৎসক হিটলার চৌধুরীর দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। যেখানে ৫ দিনের বেড রেস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। কেষ্টর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে বিতর্কে ডাক্তার হিটলার চৌধুরী। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক হওয়ার পরও কী করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে? তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ঠিক কী হয়েছে, শান্তিনিকেতন হাসপাতালের কাছে জানতে চান কেষ্ট ঘনিষ্ঠ হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিটে। একটা তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কর্ণধারকে জানাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোথায় BMOH? এখনও খোঁজ নেই চিকিৎসক হিটলার চৌধুরীর।