ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা: মেসিকাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) তিন নম্বর নোটিস দিল পুলিশ। নোটিস গ্রহণ করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। অর আগে দুইবার নোটিস পাঠানো হলেও হাজির হননি তিনি।

Continues below advertisement

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান (Lionel Messi event vandalism) ঘিরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। মেসিকে দেখতে না পেয়ে মাঠে ঢুকে চলে ভাঙচুর, তাণ্ডব। সেদিনই দেখা যায়, ফুটবল তারকা মেসির গায়ে কীভাবে লেপ্টে রয়েছেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। প্রথমে ৫ তারিখ তলব করা হলেও হাজিরা দেননি অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চাইলেও, কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে ৭ তারিখ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। ৮ তারিখ সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে।

Continues below advertisement

কিন্তু সেদিনও থানায় হাজিরা দেননি অরূপ বিশ্বাস। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর দুইবার নোটিস দেওয়া হয়। তাঁর বাড়ির সামনে গেট, সেখানে দুইটি নোটিস জ্বল জ্বল করছে।

দুইবার তলবের পর হাজিরা না দিয়ে, উল্টে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেন অরূপ বিশ্বাস। এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে বুধবার তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কড়া পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, ‘মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন। মেসি কি তাঁর বাল্যবন্ধু? মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন?’ 

এদিন কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, মেসিকাণ্ডে পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। তদন্ত চলবে তদন্তের মতো। কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। সবরকম সহযোগিতা করতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। এই ঘটনা কেন ঘটল, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে আলাদা করে তদন্তের নির্দেশও দেন বিচারপতি। পাশপাশি, আদালতের নির্দেশ, মেসিকাণ্ডে পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। 

আরও পড়ুন:- 'আপনি ম্যাচে আমায় খেলতে দেখেননি?' ফিটনেস প্রসঙ্গে রোনাল্ডোর মন্তব্যে সমর্থকদের মনে আশার আলো 

তবে গ্রেফতারির মতো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এই ঘটনা কেন ঘটল সেটার আলাদা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে।